নৈহাটি: নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে (Abhijit Chatterjee)গ্রেফতার করেছে নৈহাটি পুলিশ। খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ, হুমকি, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখা, আর্মস অ্যাক্ট ও বিস্ফোরক আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁর দিকে ডিম ও জুতো ছুড়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন ব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে অভিজিৎকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক রাখারও অভিযোগ রয়েছে, যা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘অভিষেক আমার ছেলের মতো, ভুল করলে ক্ষমা করাই বাবার কর্তব্য’, সুর নরম কল্যাণের!
পুলিশ জানিয়েছে, অভিজিৎকে গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে এবং আরও কিছু তথ্য উঠে আসতে পারে।আদালতে তোলার সময় দৃশ্য ছিল উত্তপ্ত। অভিজিৎকে পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার পথে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। “অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিচার চাই”, “অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না” এমন স্লোগানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
উত্তেজিত জনতা ডিম ও জুতো ছুড়তে শুরু করেন। পুলিশকে কঠোরভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়। বিজেপি কর্মীরা এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিজিৎ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এবং প্রশাসন আগে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই গ্রেফতারকে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “অভিজিৎকে নিয়ে এলাকায় অনেক ভয় ছিল। মেয়েরা নিরাপদ বোধ করত না। অনেকেই চুপচাপ সহ্য করে গেছেন। আজ পুলিশ অ্যাকশন নেওয়ায় অনেকে খুশি।” অন্যদিকে অশোক চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তাঁরা বলছেন, বিরোধীদের চাপে পড়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে অশোক চট্টোপাধ্যায় এলাকায় পরিচিত মুখ।
তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও কেউ কেউ এই ঘটনাকে দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন। বিজেপি নেতারা অবশ্য এটিকে তৃণমূলের ‘ত্রাসের রাজনীতির’ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।



















