নয়াদিল্লি: একদিকে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ‘এল নিনো’ (El Nino)-র ভ্রুকুটি, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সাইবার ক্রাইমের মতো আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ। এই জোড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যগুলিকে এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশদে আলোচনা করেন তিনি।
বৈঠকে দেশের ২৮টি রাজ্য এবং ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এদিন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী:
এল নিনোর প্রভাব ও জলসংরক্ষণ
বিশ্বজুড়ে ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের জলতলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়, যার জেরে কোথাও খরা আবার কোথাও প্রবল বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেন্দ্র চিন্তিত যে, এর প্রভাবে দেশে এবার বর্ষায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ব্যাহত হতে পারে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত রাজ্যকে আগেভাগেই সতর্ক করেছেন এবং জল সংরক্ষণে আরও জোরালো পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
‘AI-কে ভয় নয়, সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে’
প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ব্যবহার বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “এআই-কে ভয় পেলে চলবে না, একে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।” ভবিষ্যতের অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পরবর্তী প্রজন্মের ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি যুবসমাজকে আধুনিক দক্ষতায় পারদর্শী করে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
সাইবার অপরাধ ও সামাজিক ব্যাধি
প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর অন্ধকার দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সাইবার প্রতারণা এবং মাদকাসক্তির মতো নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কড়া ও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অর্থনীতির দিশা ও বিকশিত ভারত
বৈঠকে মোদী উল্লেখ করেন, গোটা বিশ্ব যখন আর্থিক অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের ধারাবাহিক উন্নয়ন সারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর মতে, ভারতের ৭০ কোটি যুবক-যুবতী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই জনসংখ্যাগত শক্তিকেই আগামী দিনের উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
যুব সমাজ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প (MSME)-এর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। অংশীদার দেশগুলি থেকে বিনিয়োগ টানতে রাজ্যগুলিকে আরও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তবে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য শুধু কেন্দ্রের একার নয়, প্রতিটি রাজ্য, জেলা, ব্লক ও গ্রামের সম্মিলিত সংকল্প হতে হবে।
এদিনের বৈঠকে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক কুমার লাহিড়ি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ (ODOP) প্রকল্প এবং রফতানিমুখী উন্নয়ন কৌশলের ওপরও বিশেষ জোর দেন। সব মিলিয়ে, আগামীর ভারতকে সমস্ত রকম প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করতেই এদিনের মেগা বৈঠকে রূপরেখা তৈরি করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।



















