নৌবাহিনীর (Indian Navy) সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রক অত্যাধুনিক ‘গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (GNSS) জ্যামার তৈরির জন্য বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক কোম্পানি ASSPL-এর সঙ্গে ৪৪৯ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে—এমন একটি পদক্ষেপ যা ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একবার এই স্যাটেলাইট জ্যামারগুলো বসানো হয়ে গেলে, কোনো শত্রু দেশের জাহাজ ভারতের সামুদ্রিক রাডারের আওতাভুক্ত এলাকায় প্রবেশ করে কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। এই জ্যামারগুলোতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ৭৫ শতাংশই হবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২০টি ‘এনহ্যান্সড ক্যাপাবিলিটি গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (ECGNSS) জ্যামার সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক ‘অ্যাকর্ড সফটওয়্যার অ্যান্ড সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড’ (ASSPL)-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত ১০ জুন দিল্লিতে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং-এর উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়; চুক্তিটি ‘বাই (ইন্ডিয়ান-IDDM)’—অর্থাৎ দেশীয়ভাবে নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত—শ্রেণির আওতায় সম্পন্ন হয়েছে।
এই ব্যবস্থার সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে প্রতিপক্ষের জিএনএসএস (GNSS) রিসিভারের স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ ও ট্র্যাকিংয়ের কার্যকারিতা ব্যাহত করা, এবং সেই সাথে সিগন্যাল স্পুফিং ও জ্যামিং করা; এটি নানামুখী হুমকির পরিবেশে নৌ-জাহাজগুলোর নিরাপদ কার্যক্রম পরিচালনার পথ সুগম করবে।

জ্যামার কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
এটি একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা এর আশেপাশের এলাকার তারবিহীন (ওয়্যারলেস) সংকেত বা সিগন্যাল ব্যাহত করে। সাধারণত, এই যন্ত্রটি মোবাইল কল, ওয়াই-ফাই, জিপিএস এবং অন্যান্য তারবিহীন পরিষেবায় ব্যবহৃত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতেই সংকেত প্রেরণ করে। অনেক জায়গায় এর ব্যবহার অপরিহার্য হলেও, এমন কিছু স্থানও রয়েছে যেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা নিষিদ্ধ।
জ্যামার চালু করা হলে প্রকৃত নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রায়শই এমন এলাকায় ফোন কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ইন্টারনেটের গতি অত্যন্ত কমে যায় এবং কখনও কখনও সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া, জ্যামার নেভিগেশন বা দিকনির্ণয় ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। এ কারণেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক কোম্পানি ASSPL-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে—এমন একটি পদক্ষেপ যা ভারতীয় সামুদ্রিক জলযানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জ্যামার কোথায় ব্যবহার করা যেতে পারে?
এই ব্যবস্থাটি প্রায়শই ভিভিআইপি (VVIP) নিরাপত্তা কার্যক্রমের সময় বা সংবেদনশীল কোনো স্থানে ব্যবহার করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো অবাঞ্ছিত বা বিপজ্জনক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা। এছাড়া কখনও কখনও বিশ্ববিদ্যালয়েও এগুলোর ব্যবহার দেখা যায়; এর মাধ্যমে মোবাইল সংযোগ সীমিত করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহিত করা হয়। এই যন্ত্রগুলো মোবাইল সংযোগ ও তারবিহীন (ওয়্যারলেস) পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটায়।




















