ত্রাণ সামগ্রী পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল কৃষ্ণনগর জেলা আদালত। বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করার পর তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক প্রাক্তন মন্ত্রীকে আগামী ছয় দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি তদন্তের ভিত্তিতে বুধবার সকালে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সামগ্রীর একটি অংশ বেআইনিভাবে পাচার করা হয়েছে। সেই ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে (Police Custody) বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, ত্রাণ বণ্টন সংক্রান্ত একাধিক নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বয়ান খতিয়ে দেখার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই মামলার সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। সেই কারণে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের হদিস পাওয়া জরুরি। আদালতে পুলিশের তরফে বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, ত্রাণ সামগ্রী কোথায় পাচার করা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র জানতে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, উজ্জ্বল বিশ্বাসের আইনজীবীরা (Police Custody) আদালতে দাবি করেন, তাঁদের মক্কেল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ তদন্তকারীরা আদালতে তুলে ধরতে পারেননি বলেও দাবি প্রতিরক্ষা পক্ষের। তাঁরা জানান, উজ্জ্বল বিশ্বাস তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত ছয় দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ বণ্টন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শাসক দলের নেতাদের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে এবং তদন্তে যা সত্য প্রমাণিত হবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আদালতের নির্দেশের পর উজ্জ্বল বিশ্বাসকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী কয়েকদিন ধরে তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেগুলির সঙ্গে অভিযুক্তের বক্তব্য মিলিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




















