নয়াদিল্লি: মোদী সরকারের সবুজ শক্তি অভিযান এবার শুধু পরিবেশ রক্ষার লড়াই নয়, (green energy)বরং দেশের লক্ষ লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ হয়ে উঠতে চলেছে। এক নতুন সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি (নন-ফসিল ফুয়েল) উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ করলে দেশে সাড়ে ৪৪ লক্ষেরও বেশি নতুন চাকরির সৃষ্টি হতে পারে।
এই সমীক্ষাটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে পরিবেশবিদ, অর্থনীতিবিদ ও যুবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত সরকার ইতিমধ্যে বিশ্বের সামনে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন। এর মধ্যে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং অন্যান্য পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন এই সমীক্ষা বলছে, এই লক্ষ্য পূরণের পথে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই বাড়বে না, বরং পুরো অর্থনীতিতে এক বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে।
আরও দেখুনঃ হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ উচ্ছেদ অভিযান, স্বস্তিতে হকাররা
সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হবে সৌরশক্তি খাতে। সৌর প্যানেল উৎপাদন, ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, স্টোরেজ সিস্টেম এবং গ্রিড ইন্টিগ্রেশনের কাজে লক্ষ লক্ষ যুবকের চাকরি হবে। বায়ুকল (উইন্ড টারবাইন) উৎপাদন ও স্থাপনায়ও বড় সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারেও বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মসংস্থান শুধু শহরকেন্দ্রিক হবে না। গ্রামীণ এলাকায়ও সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার যুবক-যুবতী কাজ পাবেন। বিশেষ করে রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ফলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানও শক্তিশালী হবে।
সৌর প্যানেল ও অন্যান্য সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানি কমবে এবং নতুন শিল্প গড়ে উঠবে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত ইতিমধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশের নন-ফসিল ফুয়েল ক্ষমতা ২০০ গিগাওয়াটেরও বেশি। ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ গিগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যোগ করতে হবে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞের জন্য দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্তরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।




















