কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দু’দিনের দিল্লি সফর শেষ করে বুধবার বিকেলে কলকাতায় ফিরে এলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরে দলনেত্রীর পাশে দেখা গেল না দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক চরম নাটকীয় তথ্য, কলকাতা ফেরার উদ্দেশ্যে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে নাকি ফিরে যান অভিষেক! ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ভোটের আগে চড়া সুরে নানা হুমকি দিলেও, এবার সই জাল কাণ্ডে সিআইডি-র হাতে গ্রেফতারি এড়াতে ভয়ে কার্যত কাঁটা খোদ জোড়ফুলের যুবরাজ। আর সেই কারণেই তড়িঘড়ি কলকাতায় না ফিরে আরও একটা রাত রাজধানীতে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সিআইডি-র তৃতীয় ডেডলাইন মিস ও দমদম বিমানবন্দরে নজরদারি
কয়লা বা গরু পাচার কাণ্ডে ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে থাকা অভিষেকের অস্বস্তি এবার চরম বাড়িয়ে দিয়েছে ঘরের মাঠের ‘সই জাল কাণ্ড’। এই মামলায় ইতিমধ্যেই পরপর তিনবার সিআইডি হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় ছিল সিআইডি-র তৃতীয় সমনের ডেডলাইন। কিন্তু ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের অজুহাতে গত শনিবারই মমতার সঙ্গে দিল্লিতে উড়ে যান অভিষেক। সিআইডি সূত্রে খবর, অভিষেক হাজিরা এড়াতেই তদন্তকারী সংস্থার তরফে দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাঁর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ফলে কলকাতায় পা রাখলেই যে তাঁর গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা প্রবল, তা বুঝেই এই সাবধানী পদক্ষেপ অভিষেকের।
জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ, বৃহস্পতিবারই ভাগ্যপরীক্ষা
এই চরম আইনি সংকটের মাঝেই সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালত জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ মেলে, তবেই কলকাতায় ফিরবেন অভিষেক। কিন্তু আদালত যদি রক্ষাকবচ না দেয়, সেক্ষেত্রে ‘যুবরাজ’ কী করবেন, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।
কী এই সই জাল কাণ্ড?
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে ভোটের ফল প্রকাশের পর। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর নিয়ম মেনে সই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডেকে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জন বিধায়কের সই করা একটি প্রস্তাবনাপত্র বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দেয় তৃণমূল।
কিন্তু সচিব পরীক্ষা করে দেখেন, বিধায়কদের আসল সইয়ের সঙ্গে এই কাগজের সই মিলছে না! দুই জায়গায় সই না মেলায় জালিয়াতির সন্দেহে দায়ের হয় এফআইআর, যার তদন্তভার পায় সিআইডি। সূত্রের খবর, সিআইডি-র জেরার মুখে দলেরই এক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক সরাসরি অভিষেকের দিকে আঙুল তোলেন। আর তার পর থেকেই সিআইডি-র সাঁড়াশী আক্রমণের মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।




















