কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar)দলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফার পর তিনি আরজিকর কান্ড ও খুনের ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “ক্ষমতা তাদের মাথায় এতটাই চড়েছিল যে তারা ভাবত পৃথিবীর কেউ তাদের ছুঁতে পারবে না।”
#WATCH | Delhi | After resigning from his post as a Rajya Sabha MP and from the primary membership of AITC, Sukhendu Sekhar Ray says on the RG Kar murder and rape incident, “Power had gone to their (TMC) heads to such an extent that they believed no one in the world could touch… https://t.co/0R7TZPpqFS pic.twitter.com/D2KT4DJlbr
— ANI (@ANI) June 8, 2026
সুখেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ভোটের বুথে রেকর্ড ৯৭-৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু দলের তরফে এই বিষয়ে কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। গত পনেরো বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন মন্ত্রী, পঞ্চায়েত নেতা, কাউন্সিলর, মেয়র তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রাপ্য হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের কাছে যাওয়াই দায় হয়ে পড়েছিল।
আরও দেখুনঃ রাজ্য পুলিশে বিরাট রদবদল! একযোগে বদলি ১৭৯ জন আইপিএস আধিকারিক
তাঁরা মাটির সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছিলেন।”তিনি আরও যোগ করেন, “যে দলের কর্মীরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছিলেন, যাঁরা বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর লড়াই করেছিলেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার বদলে সামনে এসেছিলেন দালাল, চোর, ডাকাত ও ধর্ষকরা। এখন সবকিছু টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে। গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়ি কার? পঞ্চায়েত নেতার।
সেখানে সুইমিং পুল, বিদেশি পাখি কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে।”সুখেন্দু শেখর রায় এখন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নতুন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলার প্রতিটি হাসপাতালে গত পাঁচ বছরে কী কী কেনাকাটা হয়েছে, তার পুরোপুরি তদন্ত হোক। ফরেনসিক অডিট করা উচিত। দেশে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা বারবার ঘটছে। সমাজে এর চেয়ে জঘন্য আর কিছু নেই।
আরজিকরের ঘটনার প্রভাব শুধু ওই জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ঘটনার পরপরই রাস্তায় নেমে এসেছিল সাধারণ মানুষ। যাঁরা জীবনে কখনো মিছিলে যাননি, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না ডাক্তারসহ সেই সব মানুষ রাতভর রাস্তায় ছিলেন।”তিনি অভিযোগ করেন, “সেই সময় নেতা ও প্রশাসন কোনো আলোচনা বা চিন্তাভাবনা করেনি। ক্ষমতা মাথায় উঠেছিল বলে তারা ভেবেছিল কেউ তাদের ছুঁতে পারবে না।
কিন্তু যে জনতা তাদের ক্ষমতায় পাঠিয়েছিল, সেই জনতাই আজ তাদের নামিয়ে দিয়েছে।”সুখেন্দুবাবু আরও দাবি করেছেন, “সবার সম্পত্তির তদন্ত হোক। মন্ত্রী, পঞ্চায়েত নেতা, জাতীয় নেতা কিংবা আন্তর্জাতিক নেতা সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা উচিত।”তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন নেতার মুখ থেকে এমন সরাসরি অভিযোগ অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। আরজি কেয়ার ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ফেটে পড়েছিল। সেই ক্ষোভ যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, সুখেন্দু রায়ের ইস্তফা ও বক্তব্য তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।




















