ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের উত্তেজনার আবহ। উত্তরাঞ্চলের একাধিক সীমান্ত এলাকায় কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টাকে (BGB)ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) দাবি করেছে, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু মানুষ সীমান্তের জিরো লাইন কিংবা ভারতীয় অংশে আটকে পড়েছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর প্রায় ৫টার সময় লালমনিরহাট জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত এলাকায় মোট ৩৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয় বলে খবর আসে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেন।
আরও দেখুনঃসরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ! না মানলেই কড়া শাস্তি
লালমনিরহাটের বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সীমান্তের জিরো লাইনে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, তারা কেউ বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
বিজিবির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন বারাখাতা সীমান্ত ফাঁড়ি (BOP) এলাকার কাছে ১১ জনকে সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। একই সময়ে পাশের পাইশাট্টিবাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকার দিক থেকেও আরও ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে খবর পায় বিজিবি।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সীমান্তে অবস্থান নিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবির দাবি, শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় অংশেই বসে থাকেন। ঘটনার পর সীমান্তজুড়ে টহল এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে লালমনিরহাটের অন্য একটি সীমান্ত অংশেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অধীন দুর্গাপুর এবং দিঘলতারি সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা সীমান্ত পিলার নম্বর ৯২৫ এবং ৯২৭-এর কাছে ভারতীয় অংশে আরও ১২ জনের একটি দলকে দেখতে পান। বিজিবি সদস্যরা মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিলে তারা আর বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসেননি বলে জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়লেও বিজিবি আশ্বস্ত করেছে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনও ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম আরও জানান, ঘটনার পর থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা ও তথ্য বিনিময় চলছে, যাতে সীমান্তে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবিক দিক এবং নিরাপত্তা সবকিছু বিবেচনা করেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।




















