আয়ুষের দাপট! দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে উড়িয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়ন হুগলি

ফাইনালে দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে ১১৮ রানে উড়িয়ে শিরোপা জিতল হুগলি। অধিনায়ক আয়ুষ পানের ৮৮ রানেই গড়ে ওঠে জয়ের ভিত।

By Sports Desk

Published:

Follow Us
hooghly-u15-champions-ayush-pan-stars-against-south-24-parganas

স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট (Bengal Cricket) অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট মেনস অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ান ডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে শিরোপা জিতল হুগলি ডিএসএ। ফাইনালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডিএসএ-কে ১১৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট নিজেদের মাথায় তুলে নিল হুগলির তরুণ ক্রিকেটাররা।  ব্যাট ও বল, দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তারা প্রমাণ করে দিল, এই সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের ফল।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় হুগলি। শুরু থেকেই দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক আয়ুষ পান। পরিণত মানসিকতা ও অসাধারণ শট নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়ে তোলেন। ৯৬ বল মোকাবিলা করে ৮৮ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। শতরান না পেলেও দলের প্রয়োজনে খেলা এই ইনিংসই হুগলির বড় স্কোরের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

   

আয়ুষের পাশাপাশি মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন অনিক গড়াই। শেষের দিকে দ্রুত রান তুলে মাত্র ৩৪ বলে ৪৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ফলে নির্ধারিত ৪৫ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় হুগলি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হয়ে রুদ্র রায় বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে আরও বড় স্কোর করতে দেননি।

তবে রান তাড়ার শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকায় কোনও বড় জুটি গড়ে উঠতে পারেনি। অনিক হালদার ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সমর্থন পাননি। ফলে প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমশ বেড়েই চলে। হুগলির বোলাররা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইন ও লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন।
বল হাতে দিগন্ত হাওলাদার ও অনিক গড়াই বিশেষভাবে নজর কাড়েন। দিগন্ত ৬ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। অন্যদিকে অনিক ৫ ওভারে ১২ রান খরচ করে ২ উইকেট তুলে নিয়ে অলরাউন্ড দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁদের পাশাপাশি অন্য বোলাররাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৭.৩ ওভারে মাত্র ১২৩ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইনিংস।

ফাইনালে ম্যাচজয়ী ৮৮ রানের অনবদ্য ইনিংসের জন্য আয়ুষ পান নির্বাচিত হন ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার। গোটা মরশুম জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্বগুণ এবং চাপের মুহূর্তে দলের হাল ধরার ক্ষমতা তাঁকে বাংলার উদীয়মান প্রতিভাদের অন্যতম হিসেবে তুলে ধরেছে।

এই শিরোপা জয় শুধু একটি ট্রফি অর্জনের গল্প নয়। এটি হুগলি জেলার ক্রিকেট পরিকাঠামো, কোচিং ব্যবস্থা এবং প্রতিভা বিকাশের সাফল্যেরও প্রতিফলন। দলের একাধিক ক্রিকেটার ভবিষ্যতে বাংলা তথা ভারতীয় ক্রিকেটে নিজেদের ছাপ ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তাই এই জয় হুগলির ক্রিকেট পরিবারের কাছে নিঃসন্দেহে এক গর্বের অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Sports Desk

Follow on Google