ঢাকা: বাংলাদেশের পিরোজপুরে একটি কালী মন্দিরে নৃশংসভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Pirojpur)। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার পর একটি গাছে চিরকুট ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। সেই চিরকুটে লেখা ছিল “শুভেন্দুকে বলে দিস, এভাবেই আগুন দেওয়া হবে… ইনশাআল্লাহ”। এই ঘটনা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অনেকে মনে করছেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর পরিকল্পনামাফিক আক্রমণ চলছে।ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুর সদরের পৌর শ্মশান সংলগ্ন কালী মন্দিরে। সোমবার ভোররাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে ঢুকে প্রথমে মূর্তি ভাঙচুর করে, তারপর আগুন ধরিয়ে দেয়। মন্দিরের দানবাক্স, পূজার সামগ্রী, অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র সব লুট করে নিয়ে যায়। আগুনে মন্দিরের বড় অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আরও দেখুনঃ “তৃণমূল ভাঙতে পারেন ৫০ বিধায়ক, কাড়বেন প্রতীকও!”বিস্ফোরক ঋজু
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পিরোজপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেছেন, ভোররাতের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত আক্রমণ।
সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো মন্দিরের কাছের গাছে ঝুলিয়ে রাখা সেই চিরকুট। তাতে স্পষ্ট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। লেখাটি পড়ে স্থানীয় হিন্দুরা আরও ভয় পেয়েছেন। অনেকে বলছেন, এই হুমকি শুধু শুভেন্দুকে নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়কেও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। তাঁরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হিন্দু মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ বেড়েছে। হাজার হাজার হিন্দু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছেন।




















