গুয়াহাটি: অসমের নলবাড়ি জেলার গঙ্গাপুর এলাকায় এক ভয়ানক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Nalbari)বাংলাদেশি যুবক রোজ আলি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ১৭/১৮ বছরের কিশোরী মৃদুমুদ্রা ডেকাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করে আসছিলেন। কিশোরী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে রোজ আলি ও তার সঙ্গী আরেক বাংলাদেশি যুবক (আশিক আলি) গত ৩০ মে রাতে মেয়েটি ও তার ১৯ বছরের খুড়তুতো ভাই মধুর্জ্য বর্মনের ওপর নৃশংস হামলা চালায়।
দুজনে স্কুটারে করে নলবাড়ি শহর থেকে বই কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎই দুই অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মধুর্জ্য বর্মন, যিনি অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)-এর ওয়েস্ট নলবাড়ি আঞ্চলিক শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন, ঘটনাস্থলেই মারা যান। একাধিক কোপের আঘাতে তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। মৃদুমুদ্রা ডেকা গুরুতর আহত অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লড়াই করছেন।
আরও দেখুনঃ হেলমেট মাথায় আদালত চত্বরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, শুরু জল্পনা
চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নলবাড়ি জেলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আসু নেতৃত্বসহ স্থানীয় ছাত্র-যুব সমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। শত শত মানুষ মিছিল করে ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন। মধুর্জ্যর শেষকৃত্যে হাজারো মানুষ অংশ নেন। অনেকে এই ঘটনাকে ‘লাভ জিহাদ’-এর ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। আসু নেতারা বলেন, “একজন বিদেশি অনুপ্রবেশকারী স্থানীয় মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে রোজ আলিকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পরদিন ১ জুন সকালে এক নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। মুকলমুয়া এলাকার চর অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে রোজ আলি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, আসামি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। অন্য অভিযুক্ত আশিক আলির খোঁজ চলছে।
এই এনকাউন্টার ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে স্থানীয় অসমিয়া সমাজে স্বস্তি, অন্যদিকে রোজ আলির গ্রামের কিছু মুসলিম বাসিন্দা তাঁর জানাজা পড়তে অস্বীকার করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা বলছেন, এমন ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির জন্য তাঁরা শোক প্রকাশ করবেন না। এই ঘটনা অসমে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসম্প্রদায়িক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। আসুসহ বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়ন করতে হবে। রাজ্য সরকারের কাছে নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে।




















