‘ছিবড়ে’ হয়ে গিয়েছিলেন তাপস পাল, চাপে ফেলেন মমতা, দাবি স্ত্রী নন্দিনীর

ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল (Nandini Paul on Mamata) কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে,  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
late-actor-turned-politician-tapas-pauls-wife-levels-serious-allegations-against-mamata

ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল (Nandini Paul on Mamata) কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে,  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যেসব বৈঠক ডাকছেন, সেখানেও বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, (Nandini Paul on Mamata) দলের ভিতরে অসন্তোষ বাড়তে বাড়তে একাংশ বিধায়ক পদত্যাগের পথও বেছে নিচ্ছেন বলে খবর। একইসঙ্গে দলেরই বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে (Nandini Paul on Mamata) অস্বস্তি বাড়িয়েছে একটি বড় দাবি। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ জন বিধায়ক সই সংগ্রহ করে তা বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা দিতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি, তবে বিষয়টি ঘিরে শাসকদলের অন্দরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিলেন প্রয়াত অভিনেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক তাপস পালের (Tapas Paul) স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল (Nandini Mukherjee Paul)। সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে তাপস পালকে কার্যত মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

   

নন্দিনীর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক (Nandini Paul on Mamata) মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তিনি তাঁর পোস্টে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কুণালকে বলতে শোনা যায়, ৭১ বছর বয়সী এক নেত্রীর প্রতি সকলের বিবেকবান হওয়া উচিত। এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে নন্দিনী প্রশ্ন তোলেন, যখন তাপস পালকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তখন সেই বিবেক কোথায় ছিল? তিনি আরও লেখেন, “তাপস পাল নামক একজন মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে কার্যত ছিবড়ে করে ফেলা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল(Nandini Paul on Mamata) তখন সেই বিবেক কোথায় ছিল?” নন্দিনীর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ এতে পরোক্ষভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুধু তাই নয়, কুণাল ঘোষকেও একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন নন্দিনী। তিনি জানতে চেয়েছেন, অতীতে কুণাল ঘোষ যখন প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছিলেন, তখন কী এমন ঘটল যে হঠাৎ করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হয়ে গেল। এটি কি মতাদর্শের পরিবর্তন, নাকি পরিস্থিতির চাপ, নাকি অন্য কোনো কারণ এই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। নন্দিনীর মতে, রাজনীতিতে অবস্থান পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়, তবে সেই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ব্যক্তিগত রসায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google