“তৃণমূল ভাঙতে পারেন ৫০ বিধায়ক, কাড়বেন প্রতীকও!”বিস্ফোরক ঋজু

কলকাতা: মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পাওয়ারের যে পরিণতি হয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় কি ঠিক সেই পথেই হাঁটছে তৃণমূল কংগ্রেস? দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জাতীয় মুখপাত্র ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Around 50 MLAs could break TMC

কলকাতা: মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পাওয়ারের যে পরিণতি হয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় কি ঠিক সেই পথেই হাঁটছে তৃণমূল কংগ্রেস? দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জাতীয় মুখপাত্র রিজু দত্তের এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় বাংলার রাজনীতি। রিজু দত্তর দাবি, দলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবার তৃণমূল ভেঙে বেরিয়ে এসে আসল ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ দাবি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে এমন গভীর অস্তিত্ব সংকটে বোধহয় কখনই পড়েনি ঘাসফুল শিবির। (Around 50 MLAs could break TMC)

ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজু দত্ত দাবি করেছেন, নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের একটা বড় অংশ সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম চাপিয়ে দেয়। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দল ছাড়ার এবং আসল তৃণমূল দাবি করার রাস্তা খুঁজছেন। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং বিধায়ক পদ টিকিয়ে রাখতে গেলে প্রয়োজন অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থন। রিজু দত্তর দাবি যদি সত্যি হয়, তবে বিক্ষুব্ধরা সেই ম্যাজিক নম্বরের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

   

এই ভাঙন জল্পনার আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে সোমবার রাতে কুণাল ঘোষের একটি বিস্ফোরক দাবি। কুণাল অভিযোগ করেন, সদ্য বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা দক্ষিণ কলকাতার একটি বিলাসবহুল হোটেলে বেশ কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে এক গোপন বৈঠক করেছেন। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে কুণালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঋতব্রত। তবে দল ছাড়তেই এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি। ঋতব্রতের বিস্ফোরক দাবি, “তৃণমূলে এখন আর কথা বলার কোনও জায়গা নেই। এই দলটা আর টিকবে না, বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে।”

দলের এই নজিরবিহীন সংকট যে শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম উদ্বেগে রেখেছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই। সোমবার এক ফেসবুক লাইভে এসে তিনি নিজেই অভিযোগ করেন, “আমাদের বিধায়কদের ওপর পুলিশি চাপ সৃষ্টি করে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কিছু লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষকে কার্যত হাতজোড় করে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের কাছে আকুতি জানাতে দেখা গিয়েছে। রবিবারের বৈঠকে ৬০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং ৩১ মে-র বৈঠকে হাজিরার সংখ্যা মাত্র ২০-তে নেমে যাওয়া প্রমাণ করে দিচ্ছে যে বিক্ষোভের আগুন কতটা ছড়িয়েছে। এখন ঘরের ভেতরের এই বিদ্রোহ সামলে মমতা দলের রাশ নিজের হাতে রাখতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google