
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কড়া এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের বার্তা দিল ভারত ও সাইপ্রাস (India Cyprus)। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেসের ভারত সফরকে ঘিরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপ এবং প্রকাশকে নিন্দা করেছেন।
সিবি জর্জ বলেন, বৈঠকে সাইপ্রাস ভারতকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে, বিশেষ করে সীমান্তপার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে। দুই দেশের নেতৃত্ব একসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলা এবং দিল্লির লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এই ধরনের হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আরও দেখুনঃ আইএএস এবং আর্থিকভাবে সচ্ছলদের সন্তানদের কোটা সুবিধা কেন ? প্রশ্ন সুপ্রিমকোর্টের
দুই দেশের বৈঠকে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা “কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম” দ্রুত চূড়ান্ত ও গৃহীত করার দাবিও তোলা হয়েছে। ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি, আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের একটি স্পষ্ট ও সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যাতে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় কোনও দ্বৈত নীতি না থাকে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, সাইপ্রাসের এই অবস্থান ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বরাবরই সীমান্তপার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানকে ঘিরে ভারতের উদ্বেগ বহুবার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ সাইপ্রাসের প্রকাশ্য সমর্থন ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা নয়, ভারত-সাইপ্রাস দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে গোটা বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং তা মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ এবং নিরাপত্তা সংকটের আবহে ভারত ও সাইপ্রাসের এই যৌথ বার্তা আন্তর্জাতিক মহলেও তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শুধু সামরিক ব্যবস্থা নয়, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান, আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার মাধ্যমেও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও দেশ একা সফল হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কড়া রাজনৈতিক সদিচ্ছাই এই লড়াইয়ের মূল শক্তি। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের এই সফর সেই বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে সামনে এনে দিল। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভবিষ্যতেও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও সাইপ্রাস।







