Home Business ভারত নয়! শত্রুতা বাড়াতে নজির ভেঙে আমলাদের পাকিস্তানে ট্রেনিং বাংলাদেশের

ভারত নয়! শত্রুতা বাড়াতে নজির ভেঙে আমলাদের পাকিস্তানে ট্রেনিং বাংলাদেশের

bangladesh-bureaucrat-training-pakistan

ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে কি বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে? (Bangladesh)এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মুসৌরির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার বদলে এবার পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিসেস অ্যাকাডেমিকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা।

- Advertisement -

সম্প্রতি বাংলাদেশের ১২ জন উচ্চপদস্থ আমলা পাকিস্তানের লাহোরে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ১১ জন যুগ্ম সচিব। জানা গিয়েছে, দুই সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণভাবে আয়োজন করেছে পাকিস্তান সরকার এবং সফরের যাবতীয় খরচও বহন করেছে ইসলামাবাদ। বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, জোর রাজনৈতিক জল্পনায়

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, যোগাযোগ— একাধিক ক্ষেত্রে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গায় পাকিস্তানকে প্রশিক্ষণ সহযোগী হিসেবে বেছে নেওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০১৪ সাল থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি আমলা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মূলত মুসৌরির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ছিল সেই প্রশিক্ষণের প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিলে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর ভারত ‘আইটেক’ (ITEC) প্রকল্পের মাধ্যমে যৌথ প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিলেও সেখানে বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোটা নির্দিষ্ট ছিল না।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রস্তাব গ্রহণ করল কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, ঢাকা হয়তো কৌশলগতভাবে নতুন ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করছে। আবার অন্য অংশের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন, যেখানে প্রতিটি দেশ নিজেদের কূটনৈতিক বিকল্প খোলা রাখতে চাইছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাকিস্তান একাধিকবার প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ তা গ্রহণ করেনি। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে লাহোরে বাংলাদেশি আমলাদের প্রশিক্ষণ অনেকের কাছেই বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের কূটনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ঢাকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।

তবে বাংলাদেশের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের বিষয় হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সরকারিভাবে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে প্রতিটি পদক্ষেপই প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।

Follow on Google