নয়াদিল্লি: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে। (Nepal Tea)ভারত সরকার নেপাল থেকে আমদানি করা চা বাধ্যতামূলক ল্যাবরেটরি পরীক্ষার নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। কাঠমান্ডুর বালেন শাহ সরকারের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে নেপালি চা বোঝাই ট্রাকগুলো আর সীমান্তে আটকে থাকবে না। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য আসা চা এখন থেকে টি বোর্ডের বাধ্যতামূলক টেস্টিং ছাড়াই ছাড়পত্র পাবে।
গত মে মাসের শুরুতে ভারতের টি বোর্ড নতুন নিয়ম জারি করে। প্রতিটি ট্রাকের চা আলাদাভাবে ল্যাবে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রতি ট্রাকের জন্য প্রায় এগারো হাজার টাকা খরচ এবং দু’সপ্তাহের অপেক্ষার ফলে নেপালি চা রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সীমান্তে হাজার হাজার কেজি চা আটকে থাকায় নেপালের চা চাষি ও রফতানিকারকরা চরম সংকটে পড়েন। অনেকে আশঙ্কা করছিলেন, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।
আরও দেখুনঃ ক্ষমতায় নেই তবুও পুলিশ ভয় পায় তৃণমূলকে! মদনের মন্তব্যে বিতর্ক
বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির প্রশাসন থেকে শুরু করে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। নেপালি দূতাবাস ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক ও টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চালায়। ফলস্বরূপ, ভারত সরকার সাড়া দেয় এবং শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য আসা চায় পরীক্ষামুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ভারত থেকে পুনঃরফতানির জন্য আসা চা এখনও পরীক্ষার আওতায় থাকবে।
নেপালের চা শিল্পের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় স্বস্তি। গত অর্থবছরে নেপাল ভারতে প্রায় ৩৯৮ কোটি নেপালি রুপির চা রফতানি করেছে। নেপালের মোট চা রফতানির প্রায় ৮৬ শতাংশই যায় ভারতে। দেশটিতে প্রায় ১৫ হাজার চা চাষি ও ৬০ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে কড়া নিয়মের কারণে তাঁদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা কমল।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি প্রতিবেশী কূটনীতির একটি ইতিবাচক উদাহরণ। দুই দেশের মধ্যে খোলা সীমান্ত এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিবেচনায় এ ধরনের নমনীয়তা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে মসৃণ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদে নেপালকে নিজস্ব ল্যাব সার্টিফিকেশনের মান উন্নত করতে হবে যাতে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা মান মেনে চলা যায়।নেপালের চা উৎপাদকরা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।




















