
নয়াদিল্লি: সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। (Supreme Court)আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, যেসব পরিবার ইতিমধ্যে সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে উচ্চ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানে পৌঁছেছে, তাদের সন্তানদের আর সেই কোটা সুবিধার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে আইএএস, আইপিএসসহ উচ্চপদস্থ চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের সন্তানরা কেন এখনও সংরক্ষণের আওতায় থাকবেন এই প্রশ্ন তুলে আদালত ক্রিমি লেয়ার ধারণাটিকে আরও কঠোরভাবে পুনর্বিবেচনার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সংরক্ষণের মাধ্যমে যে সামাজিক গতিশীলতা (সোশ্যাল মোবিলিটি) অর্জিত হয়, তা অবশেষে ওই পরিবারকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার বাইরে নিয়ে আসবে। এক প্রজন্মের পর আর সেই সুবিধা চলতে থাকলে তা ‘চিরস্থায়ী সংরক্ষণে’ পরিণত হয়, যা সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।বিচারপতিরা স্পষ্ট করে বলেছেন, “যখন বাবা-মা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে উন্নত অবস্থানে পৌঁছান, তখন তাঁদের সন্তানদের আর সেই সুবিধার প্রয়োজন কেন?
আরও দেখুনঃ ১৯ জুন পর্যন্ত অদিতি মুন্সী ও দেবরাজকে গ্রেফতার নয়, নির্দেশ হাই কোর্টের
তাঁরা তো সাধারণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সক্ষম।” আদালতের মতে, ক্রিমি লেয়ার (উচ্চ আয় ও সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে সংরক্ষণের বাইরে রাখা) নীতিকে আরও শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত করা উচিত, যাতে সত্যিকারের পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিরাই সুবিধা পান।এই পর্যবেক্ষণের পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরা বলছেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা দরিদ্র ও প্রকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্যই। যদি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ধনী পরিবারের সন্তানরা বারবার কোটা নিয়ে যান, তাহলে সত্যিকারের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিরা বঞ্চিত হবেন।
অনেকে মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের ‘সংরক্ষণের ব্যবসা’ বন্ধ করতে সাহায্য করবে।অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই পর্যবেক্ষণকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর আঘাত বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের যুক্তি, সামাজিক পশ্চাৎপদতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং প্রজন্মান্তরীয়। তাই শুধুমাত্র অর্থ বা পদের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান আসলে ক্রিমি লেয়ার নীতির আরও গভীর প্রয়োগের দিকে ইঙ্গিত করছে। ১৯৯৩ সালের ইন্দ্র সাহানি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথম ক্রিমি লেয়ার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে। এখন আদালত মনে করছে, সময় এসেছে সেই ধারণাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার। বিশেষ করে যেসব পরিবার দুই-তিন প্রজন্ম ধরে সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে, তাদের সংরক্ষণের আওতা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।







