শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁর সরকারের পাখির চোখ এখন উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন। গত দেড় দশক ধরে পদ্ম শিবিরের প্রতি উত্তরবঙ্গবাসীর যে ভরসা, এবার কাজের মাধ্যমে তারই ঋণ শোধ করতে চান তিনি। বাগডোগরায় নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বিজেপি-কে পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গ দু’হাত তুলে জায়গা দিয়েছে। এ বার উন্নয়নের মাধ্যমে সেই ঋণ আমরা শোধ করব।’’ (Suvendu Adhikari North Bengal Visit)
প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, সপ্তাহে উত্তরকন্যায় মন্ত্রী
বুধবার উত্তরবঙ্গে এক ঝটিকা সফরে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠক সহ একাধিক কর্মসূচি সেরে বিকেলেই তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ দূর করতে এদিন একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এবার থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার করে তিনি নিজে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। শুধু তাই নয়, আমজনতার সমস্যার দ্রুত সমাধানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’য় বসবেন এবং সরাসরি মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই ৪০টিতে জিতে দুর্গ গড়েছে।
তোলাবাজি-গুন্ডাগিরি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরনো জমানার কায়দায় যারা পার পাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে কোনও ভাবেই তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ্য করা হবে না। যাঁরা ভাবছেন পুরনো কায়দায় পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। আইন আইনের পথেই চলবে।’’
লক্ষ্য চা বলয় ও পর্যটন
এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা সহ উত্তরের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী প্রচারে এসে উত্তরবঙ্গের জন্য যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার সবকটিই অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে। বুধবারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের চা বলয়, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং থমকে থাকা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পগুলিকে দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।




















