নয়াদিল্লি: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে ভারত। (India S-400)রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের চতুর্থ স্কোয়াড্রন মে ২০২৬-এর মধ্যে ভারতের হাতে আসতে চলেছে। এই সময়টা ঠিক পড়ছে অপারেশন সিঁদুর-এর প্রথম বর্ষপূর্তির কাছাকাছি। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো এই অভিযানে এস-৪০০-এর ভূমিকা ছিল অসাধারণ। আর এবার সেই সিস্টেমের আরও একটি শক্তিশালী ইউনিট আসছে ঠিক সেই স্মৃতির সময়ে।
২০১৮ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার কথা ছিল। ইতিমধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং পুরোপুরি অপারেশনাল। চতুর্থটি মে মাসের শেষের দিকে এবং পঞ্চম ও শেষ স্কোয়াড্রনটি বছরের শেষে বা ২০২৭ সালের শুরুতে আসার কথা। রাশিয়ান পক্ষ থেকে এই সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ বড় স্বস্তি! একধাক্কায় অনেকটা এলপিজি বরাদ্দ বাড়াল কেন্দ্র
সূত্র অনুসারে, স্যাংশনের কারণে কিছু লজিস্টিক্যাল সমস্যা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সময়সূচি ঠিক রাখা সম্ভব হয়েছে।এস-৪০০ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী লং-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এটি একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে। ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, যুদ্ধবিমান এমনকি অ্যাওয়াক্স এয়ারক্রাফটকেও এর আওতায় আনা যায়।
অপারেশন সিঁদুরের সময় এই সিস্টেম পাকিস্তানি মিসাইল ও বিমানকে নিষ্ক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এস-৪০০-এর কার্যকারিতা দেখে শত্রুপক্ষের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে। এখন চতুর্থ স্কোয়াড্রন আসার ফলে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।
ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত মাল্টি-লেয়ার্ড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কে এস-৪০০ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর সঙ্গে দেশীয় সিস্টেম যেমন আকাশ, বারাক-৮, স্পাইডার এবং আসন্ন প্রজেক্ট কুশার মতো উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ স্কোয়াড্রন আসার পর ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ অস্বীকৃতি ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিরোধের (deterrence) একটি বার্তাও।



















