আজ সোমবার, ২৩ মার্চ। নতুন সপ্তাহের শুরুতেই দেশের সাধারণ মানুষের নজর আবারও জ্বালানির দামের দিকে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারতের জ্বালানি বাজারেও। যদিও স্বস্তির বিষয়, সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে, তবে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দামে সাম্প্রতিক বৃদ্ধি কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তেল সংস্থাগুলির প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন মহানগরে পেট্রোলের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ প্রতিটি রাজ্যে আলাদা ভ্যাট (VAT) বা স্থানীয় করের হার।
আজকের হিসেবে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ₹১০৫.৪৫। রাজধানী নতুন দিল্লিতে এই দাম তুলনামূলক কম, ₹৯৪.৭৭। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম ₹১০৩.৫৪, আর চেন্নাইয়ে তা ₹১০০.৮৪ প্রতি লিটার। দক্ষিণ ভারতের আরেকটি বড় শহর বেঙ্গালুরুতে দাম ₹১০২.৯৬, যেখানে হায়দ্রাবাদে তা আরও বেশি ₹১০৭.৪৬।
আরও দেখুনঃ হতশ্রী পারফরম্যান্স কেরালার, চাকরি হারাতে চলেছেন কাতলা
পশ্চিম ভারতের শহরগুলির মধ্যেও পার্থক্য স্পষ্ট। আমেদাবাদে পেট্রোলের দাম ₹৯৪.৪৯, যা দেশের অন্যতম কম দামের মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে পুনেতে দাম ₹১০৪.২৯ প্রতি লিটার, যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দামের পার্থক্যের মূল কারণ রাজ্যভিত্তিক কর কাঠামো। কিছু রাজ্য বেশি ভ্যাট ধার্য করে, ফলে সেখানে খুচরো দামও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, কম করের রাজ্যগুলিতে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে জ্বালানির বাজারে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার কারণে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ₹২.০৯ বেড়েছে। বর্তমানে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম প্রায় ₹১১৪-এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত উচ্চমানের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল গাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দামে আপাতত বড় কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও আপাতত কিছুটা কমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্র এবং তেল সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।



















