ভয়ংকর অস্ত্র ব্যবহার করে তেলআবিভ ছারখার করল ইরান

তেলআবিব: তেল আবিভে ফের এক ভয়াবহ ইরানি হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। (Iran cluster missile)ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক সাবমিউনিশন ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-cluster-missile-attack-tel-aviv-israel-conflict-escalation

তেলআবিব: তেল আবিভে ফের এক ভয়াবহ ইরানি হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। (Iran cluster missile)ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক সাবমিউনিশন (ছোট ছোট বিস্ফোরক) মাঝ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তেল আবিভ ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক জায়গায় আঘাত হেনেছে। এই হামলা চলতে থাকা যুদ্ধের একটা নতুন মোড়, যেখানে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে দিতে চাইছে।

হামলাটি রাতের অন্ধকারে ঘটে। সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষজন শেল্টারে ছুটে যান। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট সাবমিউনিশন ছড়িয়ে দেয়, যা বিভিন্ন জায়গায় পড়ে। রামাত গান, হোলন, রিশোন লেজিয়ন এবং তেল আবিভের কেন্দ্রীয় এলাকায় একাধিক ক্রেটার তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় আগুন লেগে যায়, গাড়ি পুড়ে যায়, ভবনের ছাদে আঘাত লাগে। ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

   

শার্পনেলের আঘাতে অনেকে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। একটা এলাকায় একটা খালি ডে-কেয়ার সেন্টারে আঘাত লেগেছে, যা ভাগ্যক্রমে খালি ছিল। তবে সাভিডর ট্রেন স্টেশনের কাছে ক্ষতি হয়েছে, সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খোররামশাহর-৪ এবং কাদর মডেলের, যাতে ক্লাস্টার ওয়ারহেড লাগানো ছিল। এই ওয়ারহেড মাঝ আকাশে খুলে যায় এবং ডজনখানেক ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়, যা ৭-৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পড়ে।

এর ফলে আয়রন ডোম বা অ্যারো মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটা মিসাইলকে আটকাতে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু সাবমিউনিশনগুলোকে আটকানো কঠিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই কৌশল ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর স্টককে ক্লান্ত করার জন্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৩৫০-এরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে, আর এখন ক্লাস্টার ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাকে আরও চাপে ফেলছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, এই হামলা আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ। লারিজানি ইরানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন, যাঁকে ইসরায়েলি হামলায় হত্যা করা হয়েছে। ইরান বলছে, এটা তাদের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন, কারণ এগুলো অন্ধভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় অবিস্ফোরিত থেকে যায়, যা পরে বিপদ তৈরি করে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google