কলকাতা: সামনেই বিধানসভা ভোট আর তারই মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানলেন নেতা আরাবুল ইসলাম। সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফে (ISF) যোগ দিতে চলেছেন ভাঙড়ের নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। আজই তাঁর আইএসএফের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে খবর। সামনেই ছাব্বিশের ভোট আর তাঁর আগেই ভাঙড়ের নেতার দলবদলের সিদ্ধান্ত। বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক মহলের সমীকরণ।
এমন সিদ্ধান্তের কারণ কি তা এখনও স্পষ্ট করেননি আরাবুল। দলে থেকেও কি গুরুত্বহীন হয়ে অনুভব করেছেন নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোন কারণ। জিজ্ঞেস করায় তাঁর উত্তর,“তৃণমূল কংগ্রেস আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারেনি। দলের জন্মলগ্ন থেকে পাশে থেকেছি, লড়েছি। কিন্তু আজ আমি নিজের দলেই কোণঠাসা।”
রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ভাঙড়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে আরাবুলের দীর্ঘদিনের লড়াই এক অন্যতম কারণ আরাবুলের দল ছাড়ার। দলের মধ্যে থেকেও সেভাবে গুরুত্ব পান না নেতা।
তাকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন,”আমার বলার ভাষা নেই বুঝলেন? যে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরে ২৬ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অনশন করেন, তখন ২৬ দিনই আমি ছিলাম। আর আমার ভাঙড়ের লোক, আমার এই ভাইয়েরা এখানে আছে, লোক আছে তারা বলবে যে ২৬ দিনই আমরা দু-তিন গাড়ি করে লোক নিয়ে যাই। সিঙ্গুরে, নন্দীগ্রামে পার্থদার সাথে একাধিকবার, প্রায় ২১ বারের মতন গিয়েছি। সেখানেও দুবার গুলি চলেছে পার্থদার গাড়ির ওপরে, আমরা নিচে নেমে পড়েছি। এই পরিস্থিতিতে দলটা করেছি। আজকে সেই দল আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারল না। আরাবুল ইসলামকে কোনওভাবে তারা বুঝতে পারল না। পাঁচবার কেস খেয়েছি, তিনবার বহিষ্কার হয়েছি। সেই কারণে মনের দুঃখে আজকে তৃণমূল থেকে রিজাইন দিচ্ছি।”
তাহলে কোথায় যাচ্ছেন তিনি? সেই প্রশ্নের উত্তরে আরাবুল ইসলাম বলেন, “এখন আমি ফুরফুরাতে যাব। আমার হুজুর আছে, নিজস্ব হুজুর আছে, তাঁর কাছে যাব, তাঁর সঙ্গে কথা বলব, তারপরে ব্যাক করব।” আইএসএফে যোগ দেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এখন কিছু বলব না। এটা ঠিক সময়ে আমি বলব। পরিস্থিতি হলে বলব। পরিস্থিতি মানে কী, দুই একদিনের মধ্যেই যেটা হবে সেটা হবে।”
জানা যাচ্ছে আগামীকাল আইএস এফ-এ যোগ দিতে পারেন আরাবুল ইসলাম।



















