কলকাতা: আগামী শনিবার ফের বঙ্গ সফরে নরেন্দ্র মোদী। সামনেই বাংলায় বিধানসভার নির্বাচন (Narendra Modi)। অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই নির্বাচন এই মুহূর্তে শুধু আর নির্বাচন নয়। এ হল বাংলার মসনদের জন্য লড়াই। এই লড়াইকে মাথায় রেখেই ফের বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামীকাল শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। তাই সেই জনসভার আয়োজন খুঁটিয়ে দেখতে ব্রিগেড পরিদর্শনে বিজেপির রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
ব্রিগেডে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন এবারের নির্বাচন তৃণমূলের বিদায়ী নির্বাচন। রাজ্যের মানুষ এগিয়ে এসেছেন এবং তারা ভোটে তাদের জবাব দেবে। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হয়েছে নয়টি ভিন্ন স্থান থেকে। প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এই যাত্রা এখন শেষ পর্যায়ে। ১০ মার্চের মধ্যে সব যাত্রা কলকাতায় শেষ হবে, আর ১৪ মার্চ বিকেলে ব্রিগেডে মোদীর ভাষণ দিয়ে এই অভিযানের সমাপ্তি।
আরও দেখুনঃ ডিএ ধর্মঘটে উত্তাল রাজ্য: নবান্নের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সরকারি অফিসে পিকেটিং
শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, এই যাত্রায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতা থেকে স্থানীয় কর্মী সবাই একসঙ্গে ‘পরিবর্তন’ চাইছে। তিনি দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যে যা হয়েছে, তা মানুষ আর সহ্য করতে চায় না। সরকারি চাকরি, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন সবকিছুতেই অচলাবস্থা। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথম ৪৫ দিনের মধ্যে ৭ম বেতন কমিশন চালু করবে, রাজ্যের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।
বিজেপি আশা করছে, এবারের সভায় রেকর্ড ভিড় হবে। ২০২১-এর নির্বাচনের আগে মোদী শেষবার ব্রিগেডে এসেছিলেন ৭ মার্চ। এবার পাঁচ বছর পর ফিরছেন, আর পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। লোকসভায় বিজেপির আসন বেড়েছে, রাজ্যে সংগঠন মজবুত হয়েছে। শমীকের কথায়, “মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের সময় শেষ।”অন্যদিকে তৃণমূল এই সভাকে ‘শো-অফ’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
দলের নেতারা বলছেন, বিজেপি শুধু প্রচার করে, কাজ করে না। রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী এসবই মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বিজেপির যাত্রা শুধু ‘ভোটের খেলা’। কিন্তু বিজেপি নেতারা পাল্টা বলছেন, রাজ্যে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, বেকারত্ব এসবের জবাব মানুষ ভোটে দেবে। এই সভা থেকে হয়তো প্রথম দফার প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা হতে পারে।



















