খতম হবে CESC-র মনোপলি! বিল আনছে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিদ্যুৎ (Electricity Amendment Bill) বিল ২০২৫-এর খসড়া ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিদ্যুৎ বিতরণ, ট্যারিফ নির্ধারণ এবং ক্রস-সাবসিডি ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
electricity-amendment-bill-2025-india-power-sector-reform

নয়াদিল্লি: দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিদ্যুৎ (Electricity Amendment Bill) বিল ২০২৫-এর খসড়া ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিদ্যুৎ বিতরণ, ট্যারিফ নির্ধারণ এবং ক্রস-সাবসিডি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করছে। কিন্তু এই বিলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে বিদ্যুৎ কর্মী ও ইঞ্জিনিয়াররা। অল ইন্ডিয়া পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার্স ফেডারেশন (এআইপিইএফ)-এর নেতৃত্বে প্রায় ২৭ লক্ষ বিদ্যুৎ কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার ১০ মার্চ দেশজুড়ে কাজ বয়কট এবং রাস্তায় নামার ঘোষণা করেছেন।

যদি সরকার বাজেট অধিবেশনে এই বিল পার্লামেন্টে পেশ করে, তাহলে এই ‘লাইটনিং অ্যাকশন’ হবে। কৃষক সংগঠনগুলোও এতে যোগ দিচ্ছে।বিলের মূল প্রস্তাবগুলো কী? প্রথমত, একই এলাকায় একাধিক বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিকে অনুমতি দেওয়া হবে, তবে তারা শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করতে পারবে। এতে নেটওয়ার্কের ডুপ্লিকেশন কমবে, খরচ কমবে এবং প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে সরকারের দাবি।

   

আরও দেখুনঃ মমতার ধর্নামঞ্চে লিফলেট বিলির অভিযোগ! মুখ্যমন্ত্রী বলতেই পাকড়াও এক

দ্বিতীয়ত, ‘কস্ট রিফ্লেকটিভ ট্যারিফ’ চালু করার প্রস্তাব অর্থাৎ ট্যারিফ বিদ্যুতের আসল খরচের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারিত হবে। সাবসিডিপ্রাপ্ত গ্রাহকদের (যেমন কৃষক, গরিব পরিবার) সুরক্ষা থাকবে, কিন্তু শিল্প, রেলওয়ে ও মেট্রোরেলের জন্য ক্রস-সাবসিডি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে পাঁচ বছরের মধ্যে। এতে শিল্পের বিদ্যুৎ খরচ কমবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।কিন্তু বিদ্যুৎ কর্মীরা এই প্রস্তাবকে ‘প্রাইভেটাইজেশনের প্রথম পদক্ষেপ বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এআইপিইএফ চেয়ারম্যান শৈলেন্দ্র দুবে বলেছেন, “এই বিল বিদ্যুৎ বিতরণকে প্রাইভেট কোম্পানির হাতে তুলে দেবে। শেয়ার্ড নেটওয়ার্কের নামে পাবলিক সেক্টরের ডিসকমগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। ক্রস-সাবসিডি তুলে নিলে গরিব ও কৃষকদের উপর চাপ বাড়বে, যদিও সরকার বলছে সাবসিডি থাকবে।” তারা অভিযোগ করছেন যে, স্টেকহোল্ডারদের মতামত উপেক্ষা করে প্রাইভেটাইজেশনপন্থী গোষ্ঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিল তৈরি করা হয়েছে।

ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি অফ ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (এনসিসিওইইই)-এর নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ চলছে।প্রতিবাদের প্রভাব কী হতে পারে? ১০ মার্চ যদি ২৭ লক্ষ কর্মী কাজ বয়কট করে, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণ, অভিযোগের সমাধান, জরুরি কাজ সব থমকে যেতে পারে। বিভিন্ন রাজ্যে যেমন পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল, জম্মু-কাশ্মীর, তেলঙ্গানা ইতিমধ্যে ছোট ছোট প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

কৃষকরা যোগ দিচ্ছেন কারণ তারা ভয় পাচ্ছেন যে, ক্রস-সাবসিডি কমলে বিদ্যুৎ বিল বাড়বে, যদিও বিলে সাবসিডিপ্রাপ্তদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।সরকারের যুক্তি হল, এই সংস্কার বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে সুস্থ করবে, নন-ফসিল ফুয়েলের দিকে ঝুঁকবে এবং ভিকসিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে। কিন্তু ইউনিয়নগুলো বলছে, এটা শুধু প্রাইভেটাইজেশনের ছদ্মবেশ। এই বিতর্ক এখন তুঙ্গে। ১০ মার্চের প্রতিবাদ যদি হয়, তাহলে সরকারের উপর চাপ বাড়বে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.