ঢাকা: বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে এবার কার্যত ‘বিস্ফোরণ’ ঘটালেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ইউনূস জমানার ১৮ মাসে তাঁকে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। এমনকি গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পরপরই ময়দানে নেমেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে ‘তথ্য গোপনকারী’ ও ‘অসত্য’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি, যা বাংলাদেশে ইসলামপন্থী শক্তি ও সদ্যপ্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে গভীর আঁতাতকে ফের জনসমক্ষে এনে ফেলেছে।
সংবিধান লঙ্ঘন
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, ইউনূস সরকারের আমলে একাধিক অসাংবিধানিক কাজ সংঘটিত হয়েছে। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে করা অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি, যা স্পষ্টত সংবিধান লঙ্ঘন। এছাড়া সিঙ্গাপুরে হার্ট বাইপাস সার্জারির ফলো-আপের জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন জানালে বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি জাতীয় ইদগাহে গিয়ে দু’বার ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির কথায়, “বি এন পি-র শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনেই আমি ওই কঠিন সময়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছিলাম।”
কেন রাষ্ট্রপতি তার উল্টো কথা বলছেন? President Shahabuddin accuses Yunus
এদিকে, রাষ্ট্রপতির এই সমালোচনার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। ফেসবুকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছাড়ার দিন যা বলেছিলেন, এখন কেন রাষ্ট্রপতি তার উল্টো কথা বলছেন? উল্লেখ্য, হাসিনার পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতির বয়ান বদলে যাওয়া ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনূস সরকারের হয়ে জামায়াত আমিরের এই লড়াই আসলে এক ‘পারস্পরিক স্বার্থের’ বহিঃপ্রকাশ। ইউনূস আমলেই জামায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের জসিমুদ্দিন রহমানি বা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মতো কট্টরপন্থীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বি এন পি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতির এই মুখ খোলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




















