গঙ্গায় এবার চলবে ‘ওয়াটার মেট্রো’! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: সড়ক ও ভূগর্ভস্থ রেলের পর এবার কি গঙ্গার বুকে ঝড় তুলতে চলেছে আধুনিক ‘মেট্রো’? কলকাতায় গঙ্গাবক্ষে জলপথ পরিবহণকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এক যুগান্তকারী ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Kolkata Set for Water Metro

কলকাতা: সড়ক ও ভূগর্ভস্থ রেলের পর এবার কি গঙ্গার বুকে ঝড় তুলতে চলেছে আধুনিক ‘মেট্রো’? কলকাতায় গঙ্গাবক্ষে জলপথ পরিবহণকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বাংলায় এবার চালু হতে চলেছে বহুকাঙ্ক্ষিত ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প, এবং এই কাজে রাজ্য সরকার অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছি। আজকের নবান্নের বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কেরল রাজ্যের ওয়াটার মেট্রোর সাফল্যের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবার কলকাতাতেও এই অত্যাধুনিক জলপথ পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।” (Kolkata Set for Water Metro)

   

কোচির আদলে পরিবেশবান্ধব বোট

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেরলের কোচি শহরের মডেল অনুকরণে কলকাতাতেও সম্পূর্ণ ব্যাটারি-চালিত এবং পরিবেশবান্ধব ‘বৈদ্যুতিক হাইব্রিড বোট’ (Electric Hybrid Boat) ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক জলযানগুলি এক দিকে যেমন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে যাতায়াতের সুবিধা দেবে, অন্য দিকে তেমনই গঙ্গার সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের কোনও ক্ষতি করবে না । সংশ্লিষ্ট নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনকে সম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।

যানজট ও দূষণ মুক্তির নতুন দিগন্ত

সমগ্র দেশের মধ্যে প্রথম পাতাল রেল বা মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়েছিল এই কলকাতাতেই। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সেই ঐতিহ্যবাহী মেট্রোর ধারাবাহিকতাকে বজায় রেখেই এবার কলকাতার জলপথ পরিবহণকেও একবিংশ শতাব্দীর উপযুক্ত করে তোলার এই মেগা পরিকল্পনা।

নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশের মতে, গঙ্গার দুই পারকে যুক্ত করে এই ‘ওয়াটার মেট্রো’ চালু হলে কলকাতার চেনা পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। প্রশাসন মনে করছে, এই পরিষেবা পুরোদমে চালু হলে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তাগুলির ওপর থেকে গাড়ির চাপ ও যানজট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি, মহানগরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে যাত্রীরা খুব কম খরচে ও স্বল্প সময়ে গঙ্গার জলপথকে ব্যবহার করে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারবেন।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google