পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: আনন্দময় বর্মনকে (Anandamoy Barman) রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরবঙ্গে ফেরেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারির (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার পর শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করে নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
সকাল থেকেই নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন (New Jalpaiguri Railway Station) চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা। হাতে দলীয় পতাকা, ফুলের তোড়া এবং মালা নিয়ে বহু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ট্রেন থেকে নামতেই ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং বিভিন্ন দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেশন এলাকা।
কর্মী-সমর্থকেরা ফুলের মালা ও উত্তরীয় পরিয়ে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান। পরে একটি খোলা জিপে করে তাঁকে বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। জিপের সামনে ও পিছনে মোটরবাইক এবং গাড়ির দীর্ঘ শোভাযাত্রাও দেখা যায়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ নতুন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
“মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আনন্দময় বর্মন বলেন, “এতদিন আমি এলাকার বিধায়ক হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করেছি। জনগণের সমস্যা, উন্নয়নের দাবি এবং এলাকার প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবার দল এবং সরকার আমাকে আরও বড় দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করব।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। আজ যেভাবে কর্মী-সমর্থকেরা আমাকে স্বাগত জানাতে এসেছেন, তাতে আমি সত্যিই আপ্লুত। মানুষের এই ভালোবাসা ও আশীর্বাদ আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে জোর
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নতুন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকার উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নেবে। উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলি দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমি সক্রিয়ভাবে কাজ করব।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন আনন্দময় বর্মন। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আর আগের অবস্থায় নেই। দল ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে। মানুষের সমর্থনও তারা ক্রমশ হারাচ্ছে।”
তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি (Matigara-Naxalbari) কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আনন্দময় বর্মন। এবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় তাঁর অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে।
কর্মী-সমর্থকদের দাবি, এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ায় উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন আরও গতি পাবে এবং দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত যে উচ্ছ্বাস এবং জনসমাগম দেখা গেল, তা নতুন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার ছবিই তুলে ধরেছে।




















