নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিএনপি (Taslima Nasrin)। তবে বিএনপির এই জয় নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি জিতেছে বলে তিনি খুশি নন, বরং তাঁর মতে, “রাজাকার-জিহাদি-সন্ত্রাসী শক্তির পরাজয়ই এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তসলিমা দাবি করেন, গত দেড় বছরে চরমপন্থী ও জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী গোষ্ঠীগুলি দেশের রাজনীতিতে অস্বাভাবিক দাপট দেখিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তিনি একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারীবিদ্বেষ, মব সন্ত্রাস, হত্যাকাণ্ড এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার মতো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এমন শক্তির ক্ষমতায় না আসাই আপাতত দেশের জন্য স্বস্তির খবর।
আরও দেখুন: বন্দে মাতরম নিয়ে শুরু নয়া বিতর্ক! বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ হয়েছে ভুল লিরিক্স
তবে শুধু মন্তব্যেই থেমে থাকেননি এই লেখিকা। বিএনপি সরকার গঠনের পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়েও তিনি একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেন। তাঁর প্রস্তাবের প্রথমেই রয়েছে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রধর্মের ধারণা বাতিল করা। পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন বাতিল করে নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করার জন্য অভিন্ন দেওয়ানী বিধি চালুর দাবি জানান তিনি।
তসলিমা আরও বলেন, দেশে বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মত দেন।
শিক্ষা ও সামাজিক কাঠামো নিয়েও তিনি একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, মাদ্রাসা শিক্ষার বদলে সেক্যুলার ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপরিষেবা নিশ্চিত করার কথাও তিনি বলেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানোর ওপরও জোর দেন।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি বেশ কিছু পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধী দলগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত এবং নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পরিবারভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতির মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তসলিমা। নিষিদ্ধ বই, থিয়েটার বা সিনেমা মুক্ত করার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা পুনর্গঠনের প্রস্তাবও দেন। নারীর পোশাকের স্বাধীনতা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, হিজাব বা বোরখা কোনও প্রতিষ্ঠানই বাধ্যতামূলক করতে পারে না। আবার নিরাপত্তার কারণে নিকাব-বোরখা নিষিদ্ধ করার বিষয়েও তিনি মত প্রকাশ করেন।
তসলিমার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা বলে মনে করছেন, আবার কেউ এটিকে চরম ও বিতর্কিত মতামত বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে একথা স্পষ্ট, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।




















