নয়াদিল্লি: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক নির্দেশনায় বিকৃত লিরিক্স মুদ্রিত হয়েছে। এই অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। জানা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, এতদিন ‘জাতীয় গান’ হিসেবে স্বীকৃত ‘বন্দে মাতরম’ এর প্রথম দুটি স্তবকের পরিবর্তে ছটি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সেই নির্দেশনায় লিরিক্সে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূলের। (Vande Mataram lyrics controversy)
শাসক দলের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশনায় মুদ্রিত তৃতীয় স্তবক আনন্দমঠ উপন্যাসে প্রকাশিত মূল লিরিক্সের সঙ্গে মেলে না। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডলে ‘আনন্দমঠ’ এ থাকা ‘বন্দে মাতরম’ এর তৃতীয় স্তবক এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় প্রকাশিত তৃতীয় স্তবক পাশাপাশি পোস্ট করা হয়েছে। দলটি দাবি করেছে, দুই সংস্করণের মধ্যে অমিল রয়েছে শাসক দলের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশনায় ‘আনন্দমঠ’ এ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র যে লিরিক্স লিখেছিলেন, তা বিকৃত করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপিকে বাংলা-বিরোধী বলেও কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, ‘জনগণমন’ এর আগে জাতীয় গান গাওয়ার যে নির্দেশ মোদী সরকার দিয়েছে, তা আদতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছোট করার প্রচেষ্টা। শাসক দলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “আমরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মান করি। আমরা বন্দে মাতরমকে সম্মান করি। কিন্তু বিজেপি কীভাবে এটা তুলে ধরছে? আসলে তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জনগণমনকে ছোট করতে চাইছে। আমরা স্পষ্ট বলছি, তারা রবীন্দ্রনাথকে পছন্দ করে না। কারণ তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন। তিনি সারা জীবন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলেছেন। তারা বন্দে মাতরম বা বঙ্কিমচন্দ্রকে গ্লোরিফাই করতে চায় না, তারা রবীন্দ্রনাথকে ছোট করতে চাইছে।”
ব্রাত্য বসুর দাবি, এই নির্দেশ কার্যত মাস তিনেকের জন্য বলবৎ থাকবে এবং তা বাংলার ভোটের কথা মাথায় রেখেই জারি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “বাংলার ভোটের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবার শপথ নেবেন। তখন দেখবেন এটি কোথায় গাওয়া হবে। বিজেপির যে এত শ্রদ্ধা, বাগাড়ম্বর, সবকিছু কোথায় যেন মিলিয়ে যাবে।”




















