কলকাতা: তিলোত্তমার খাদ্য গলি ডেকার্স লেনে এখন ‘গ্যাসের ব্যথা’৷ বাণিজ্যিক গ্যাসের (Commercial Gas) সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডেকার্স লেন, পার্ক সার্কাস, শিয়ালদহ থেকে যাদবপুর পর্যন্ত অনেক হোটেল ও রেস্তরাঁ প্রায় বন্ধের মুখে৷ বেড়েছে খাবারের দাম৷ যেমন, বর্তমানে ৩৫ টাকার সবজি ভাত বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ৪০ টাকার ডিম ভাত বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়৷
মুম্বইয়ের মতো কলকাতাতেও হোটেল-মালিকরা গ্যাসের অভাবে হিমশিম খাচ্ছেন৷ কেন্দ্রের নতুন জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ বিধি জারি হওয়ায় বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ আরও সীমিত হয়েছে৷ সোমবার থেকে নতুন সিলিন্ডার গ্যাস গুদামে পৌঁছায়নি৷ স্টকে থাকা সিলিন্ডার দিয়ে হোটেল ও রেস্তরাঁ কাজ চালাচ্ছে৷
প্রসিদ্ধ খাবার চেনের কর্ণধার দেবাদিত্য চৌধুরী জানান, “কোভিডের সময়ও আমরা ব্যবসা চালু রেখেছিলাম৷ কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস দিয়েছি৷ কিন্তু এখন গ্যাসের অভাবে মেনুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে৷” পার্ক স্ট্রিট ও অন্যান্য এলাকার হোটেলও একই সমস্যায় পড়েছে৷
বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রায় ২০০০ টাকা৷ হোটেল-রেস্তরাঁর খাবারের খরচও বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহককেই বহন করতে হবে৷ ডেকার্স লেনের চিত্তদার দোকানের ম্যানেজার বুবাই পণ্ডিত বলেন, “এভাবে চললে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে৷ সরবরাহ কমছে, দাম বাড়ছে৷”
ফাস্টফুড দোকানের মালিক সুশান্ত হালদার জানান, “ব্ল্যাক মার্কেটেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না৷ পুরনো কাঠকয়লায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়৷” শিয়ালদহের হোটেল মালিক চঞ্চল ঘোষ বলেন, “জিনিসপত্রের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে৷ এখন গ্যাসের সিলিন্ডারও অমিল৷ কী করব বুঝতে পারছি না৷”
ডালহৌসির চিলি চিকেন ও চাউমিন দোকানের মালিক সঞ্জু ঘোষ বলেন, “খাবারের দাম বাড়াতে না পারলে পরিমাণ কমাতে হবে৷ তবে মান বজায় রাখতে হবে৷” বালিগঞ্জের হোটেল মালিক দুলাল চন্দ্র যোগ করেন, “আমাদের হোটেলে সাধারণ মানুষ খেতে আসে৷ তাদের বাজেট সীমিত৷ দাম বাড়ালে সমস্যা হবে৷”
মালিকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে শহরের ছোট ও মাঝারি হোটেল ও রেস্তরাঁ অনেকেই বন্ধ হয়ে যাবে৷ সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, নাহলে ব্যবসায়িক সংকট আরও তীব্র হবে৷




















