গোয়ায় সফল পরীক্ষা! নৌসেনার শক্তি বাড়াল এডিসি-১৫০

নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনী ফের এক নয়া মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। (ADC-150)অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র DRDO এবং ভারতীয় নৌসেনা মিলিত ভাবে পরীক্ষা করল নতুন এয়ার ড্রপেবল কন্টেনার এডিসি-১৫০।…

indian-navy-drdo-adc-150-air-droppable-container-test-goa

নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনী ফের এক নয়া মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। (ADC-150)অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র DRDO এবং ভারতীয় নৌসেনা মিলিত ভাবে পরীক্ষা করল নতুন এয়ার ড্রপেবল কন্টেনার এডিসি-১৫০। গোয়ার উপকূলের কাছে পি-৮আই বিমান থেকে সফলভাবে ফ্লাইট টেস্ট করা হয়েছে স্বদেশীভাবে ডিজাইন ও তৈরি করা এয়ার ড্রপেবল কনটেইনার (এডিসি-১৫০)-এর। এই কনটেইনারটি ১৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহন করতে সক্ষম এবং এটি নৌবাহিনীর অপারেশনাল লজিস্টিক্স ক্ষমতাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলবে।

   

ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত গোয়ার উপকূলের কাছে চারটি সফল ইন-ফ্লাইট রিলিজ ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। এই ট্রায়ালগুলো বিভিন্ন চরম রিলিজ কন্ডিশনে করা হয়েছে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে সিস্টেমটি যেকোনো অপারেশনাল পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করবে। পি-৮আই পোসাইডন বিমান থেকে এই ট্রায়ালগুলো পরিচালিত হয়েছে, যা নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক মেরিটাইম প্যাট্রোল এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিমান।

আরও দেখুনঃ ১২ বছরের যন্ত্রণার অবসান! হরিশ রানার ‘নিষ্কৃতিমৃত্যু’তে সিলমোহর সুপ্রিম কোর্টের

এডিসি-১৫০-এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমুদ্রের মাঝখানে মোতায়েন থাকা নৌজাহাজগুলোকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। যখন কোনো জাহাজ বিপদে পড়ে, জরুরি সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, ওষুধপত্র বা অন্যান্য ক্রিটিকাল স্টোরসের প্রয়োজন হয় এবং সেগুলো উপকূল থেকে অনেক দূরে থাকে তখন এই কনটেইনার বিমান থেকে ফেলে দেওয়া যাবে।

এতে জাহাজগুলোকে দ্রুত সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে, যা জীবন রক্ষা এবং অপারেশন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীল সমুদ্রে (ব্লু ওয়াটার) দূরবর্তী এলাকায় মোতায়েন থাকা জাহাজগুলোর জন্য এটি একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণ স্বদেশী প্রযুক্তিতে তৈরি।

ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দিষ্ট চাহিদা মেটানোর জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি ডেভেলপ এবং কোয়ালিফাই করা হয়েছে। ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী এবং নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে আইএল-৩৮এসডি বিমান থেকে প্রাথমিক টেস্ট করা হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে পি-৮আই-এর সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করে আরও উন্নত ট্রায়াল চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালে টাইপ সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর এবার চূড়ান্ত ডেভেলপমেন্টাল ফ্লাইট ট্রায়াল সফলভাবে শেষ হয়েছে।