হায়দরাবাদ: কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ এবং সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী ড. অভিষেক মনু সিংভি (Abhishek Manu Singhvi)রাজ্যসভা নির্বাচনের হলফনামায় বিশাল সম্পত্তির বিবরণ দিয়েছেন। তেলেঙ্গানা থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা সিংভির যৌথ সম্পত্তি (নিজের ও স্ত্রী অনিতা সিংভির) মূল্য প্রায় ২,৮৬০.৩৬ কোটি টাকা থেকে ২,৮৬৯ কোটি টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। এই হলফনামা ফাইল করার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সিংভি ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজনীতিবিদদের একজন হিসেবে উঠে এসেছেন।হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, সিংভির মোট সম্পত্তির বেশিরভাগই মুভেবল অ্যাসেটস যেমন মিউচুয়াল ফান্ড (প্রায় ১৯৭ কোটি), এআইএফ ফান্ড (২০৩ কোটি), পিএমএস ফান্ড (১৪০ কোটি) এবং ফ্যামিলি ট্রাস্টে অবদান (৩৫৭ কোটি)। এছাড়া আর্টওয়ার্ক ও পেইন্টিংসের মূল্য ২৫ কোটিরও বেশি। ক্রিপ্টোকারেন্সি, শেয়ার, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স সব মিলিয়ে বিশাল পোর্টফোলিও।
আরও দেখুনঃ ভারতে প*র্নোগ্রাফি নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল আদালত
অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, এগুলো তার আইনি প্র্যাকটিস, ইনভেস্টমেন্ট এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের ফল। তবে হলফনামায় আয়কর বকেয়া ৬৩ কোটিরও বেশি দেখানো হয়েছে।সবচেয়ে আলোচিত বিষয় তার আয়ের বিস্ফোরক বৃদ্ধি। গত পাঁচ বছরে আয়ের পরিমাণ দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে (FY21) আয় ছিল ১৫৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (FY25) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৪ কোটি টাকা অর্থাৎ ২৩৬% বৃদ্ধি! মাঝের বছরগুলোতে: FY22-এ ২৯০ কোটি, FY23-এ ৩৫৯ কোটি, FY24-এ ৩৩৩ কোটি।
পাঁচ বছরে মোট আয় ১,৫১৬ কোটিরও বেশি। সিংভি বলছেন, এই আয়ের বেশিরভাগই তার সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস থেকে তিনি ভারতের সবচেয়ে দামি অ্যাডভোকেটদের একজন। রাজনৈতিক কেস, কর্পোরেট মামলা, হাই-প্রোফাইল ডিফেন্স সবকিছুতে তার চাহিদা প্রচুর।এই হলফনামা প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তুঙ্গে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এত বিশাল আয় ও সম্পত্তি কোথা থেকে?
কংগ্রেসের সমালোচকরা বলছেন, “এটা দেখে মনে হচ্ছে রাজনীতি ও আইনের মিশ্রণে কীভাবে ধনী হওয়া যায়।” অন্যরা বলছেন, সিংভি একজন সফল অ্যাডভোকেট তার ফি সর্বোচ্চ স্তরের, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সবকিছু স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, আয়কর দিয়ে আয় করা। সিংভির মতো সিনিয়র অ্যাডভোকেটরা বছরে কয়েকশো কোটি আয় করেন এটা অস্বাভাবিক নয়।



















