কলকাতা: গতকাল বাগডোগরায় আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Birbaha Hansda)। আদিবাসীদের সম্মান এবং বাংলায় আদিবাসীদের করুন অবস্থা নিয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেই ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রৌপদী মুর্মুকে নিশানা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনে তাঁর মনে হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি যেভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে, রাষ্ট্রপতি যেন সেই একই বুলি আওড়াচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে দেশবাসী নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য আশা করে। কিন্তু সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলেই তিনি মনে করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। সেই ঘটনাগুলির সময় রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি বলে দাবি করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি আসাম-এর একটি সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী ২৯টি আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এত বড় একটি ঘটনার পরও রাষ্ট্রপতির দিক থেকে কোনও মন্তব্য শোনা যায়নি।
আরও দেখুনঃ মমতা নন, মোদীই করেছেন দ্রৌপদীকে গুরুত্বহীন! বিস্ফোরক কংগ্রেস নেতা
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন মণিপুর-এর সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ ও হিংসার ঘটনায় বহু আদিবাসী পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সময়েও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া জানাননি বলেই দাবি করেন তিনি। অথচ পশ্চিমবঙ্গে এসে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বীরবাহা হাঁসদা।
তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতির পদ দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই পদে থাকা ব্যক্তির মন্তব্য সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে এসে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে তা রাষ্ট্রপতির পদের মর্যাদার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বীরবাহা হাঁসদা জানান, এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন জানাবে। প্রায় ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল এই বিষয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলতে চায় বলেও তিনি জানান।
একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাঝিথান ও জাহেরথান সংরক্ষণ, আদিবাসী ভাষায় শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং মহিলাদের সুরক্ষার জন্য অপরাজিতা বিল পাস করা। তবে বীরবাহা হাঁসদার দাবি, এই অপরাজিতা বিল এখনও রাষ্ট্রপতির দফতরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই পশ্চিমবঙ্গে এসে রাষ্ট্রপতির এই ধরনের মন্তব্যে রাজ্যের বহু মানুষ মর্মাহত হয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।



















