গাইবান্ধা: বাংলাদেশের গাইবান্ধায় বন্ধ হল দেশের সবচেয়ে বড় রামের মূর্তি তৈরী। (Ram statue)গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি বড় আকারের হিন্দু মন্দির প্রাঙ্গণে দেশের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইসলাম পন্থী মহলের প্রতিবাদের মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে মূর্তি নির্মাণের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে।পলাশবাড়ীর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (কোমরপুর) গ্রামে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এই প্রকল্প চলছিল। সেখানে ইতোমধ্যে ২৮ ফুট উঁচু শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উঁচু কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। রামমূর্তির উচ্চতা হবে প্রায় ৮১ ফুট বলে জানা গিয়েছিল, যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় হিন্দু দেবতার মূর্তি বলে জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ নাসিকে লাভ জিহাদ রুখতে ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচি! হিন্দু ধর্মে ফিরল ১.৫৬ লক্ষ পরিবার
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এবং কিছু দাতার অর্থায়নে কাজ এগোচ্ছিল।কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ইমাম-ওলামা পরিষদ, তৌহিদী জনতা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এই মূর্তি নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাঁরা বলছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এমন বিশাল মূর্তি নির্মাণ স্থানীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে।
কয়েকজন ইসলামপন্থী নেতা সংবাদ সম্মেলন করে মূর্তি নির্মাণ বন্ধ ও অপসারণের দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এ ধরনের বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনমত, আইনি অনুমোদন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসন ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, এটি তাঁদের নিজস্ব জমি এবং নিজস্ব অর্থে ধর্মীয় উপাসনালয়ের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছিল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এই সিদ্ধান্ত তাঁদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
একজন স্থানীয় হিন্দু নেতা বলেন, “আমরা শান্তিতে ধর্ম পালন করতে চাই। এখানে কারও অনুভূতিতে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”অন্যদিকে বিরোধিতাকারীরা মনে করেন, এ ধরনের বিশাল মূর্তি নির্মাণ স্থানীয় মুসলিম সমাজের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং তদন্ত দাবি করেছেন।



















