
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর (FIFA World Cup)। তবে বল গড়ানোর আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক শিল্পী। বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় এবার ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তিনি সরাসরি পারফর্ম করতে চলেছেন। ফলে বাংলাদেশ তথা বাঙালি সমাজের কাছে এটি এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সুখবর ভাগ করে নেন সঞ্জয়। তিনি জানান, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন বহুদিনের। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে বড় হয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গীতচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করেছে। বহু বছর ধরে তিনি এমন সঙ্গীত তৈরির চেষ্টা করেছেন, যা ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছতে পারে। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে সেই দীর্ঘ যাত্রার অন্যতম বড় স্বীকৃতি।
ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবাম বরাবরই বিশ্বসঙ্গীতের অন্যতম আকর্ষণ। এবারের অ্যালবামেও একাধিক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর উপস্থিতি থাকছে। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন সঞ্জয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে ও একই প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে তাঁর সঙ্গীতজীবনের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
শুধু অ্যালবামেই নয়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও থাকছে তাঁর উপস্থিতি। জানা গিয়েছে, উদ্বোধনী মঞ্চে তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক তারকার সঙ্গে পারফর্ম করবেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রতি বারই কোটি কোটি দর্শকের নজর কাড়ে। সেই মঞ্চে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীর অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সঞ্জয়ের জীবনের গল্পও বেশ অনুপ্রেরণামূলক। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে তাঁর জন্ম। শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। সেখানে বেড়ে ওঠার সময় একদিকে যেমন বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রভাব ছিল, অন্যদিকে আমেরিকান সমাজ ও সঙ্গীতের সঙ্গেও পরিচয় ঘটে। এই দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনই তাঁর সৃষ্টিশীলতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসার পেছনেও রয়েছে পারিবারিক প্রভাব। পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই গান ও সুরের পরিবেশে বড় হওয়ায় সঙ্গীত তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
এবার সেই শিল্পীই বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে নিজের প্রতিভার ছাপ রাখতে চলেছেন। ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পাশাপাশি সঞ্জয়ের এই সাফল্য এখন বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের এক নতুন উপলক্ষ। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

