স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: মোহনবাগানের (Mohun Bagan) মাঝমাঠে আরও শক্তি ও ভারসাম্য যোগ করতে বড় পদক্ষেপ নিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। নতুন মরশুমের আগে বসনিয়ার জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার সমীর জেলকোভিচকে দলে ভিড়িয়েছে সবুজ-মেরুন শিবির। দুই বছরের চুক্তিতে তিনি যোগ দিচ্ছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে। গত আইএসএল মরশুমে পাঞ্জাব এফসির হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছিলেন ২৮ বছর বয়সি এই ফুটবলার। সেই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাঁকে মোহনবাগানের জার্সি পরার সুযোগ এনে দিল।
সমীর মূলত একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণভাগের স্টপার হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। তাঁর এই বহুমুখী দক্ষতাই মোহনবাগান কর্তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। আধুনিক ফুটবলে এমন ফুটবলারের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, যিনি একাধিক পজিশনে সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলতে পারেন। সমীর সেই দিক থেকে দলের জন্য বাড়তি সম্পদ বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার এই ফুটবলার শারীরিক শক্তি, ট্যাকলিং দক্ষতা এবং ম্যাচ পড়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি বলের দখল ধরে রাখতে তিনি যথেষ্ট পারদর্শী। শুধু রক্ষণাত্মক ভূমিকা নয়, সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠে এসে গোলের সুযোগ তৈরি করতেও সক্ষম সমীর। ফলে দলের আক্রমণ ও রক্ষণ— দুই ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব দেখা যায়।
ইউরোপীয় ফুটবলের বিভিন্ন স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বসনিয়া প্রিমিয়ার লিগে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি উজবেকিস্তানের লিগেও সফলভাবে খেলেছেন তিনি। সেই সময় গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন। ফলে মাঝমাঠের একজন পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার হিসেবে তাঁর সুনাম তৈরি হয়েছে অনেক আগেই।
ভারতে এসে পাঞ্জাব এফসির জার্সিতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন সমীর। সদ্য সমাপ্ত আইএসএল মরশুমে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার ছিলেন। পুরো মরশুম জুড়ে স্থির ও পরিণত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কেড়েছেন। শুধু মাঝমাঠ সামলানোই নয়, তিনি দু’টি গোল করেছেন এবং তিনটি গোলে সহায়তাও করেছেন। সংখ্যার বিচারে তা খুব বড় না হলেও মাঠে তাঁর সামগ্রিক অবদান ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনবাগানের বর্তমান দলে সমীরের মতো একজন ফুটবলার যোগ হওয়ায় মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হবে। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে। দীর্ঘ মরশুমে একাধিক প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে স্কোয়াডের গভীরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় সমীরের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে মোহনবাগানের শক্তি বাড়াবে।
নতুন ক্লাবে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত সমীর নিজেও। তিনি জানান, ভারতে আসার পর থেকেই মোহনবাগানের সাফল্য এবং ঐতিহ্যের কথা শুনে এসেছেন। আইএসএলে প্রতিপক্ষ দলের হয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নেমে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসা। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তাই দেশের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
সমর্থকদের উদ্দেশে সমীর আরও জানিয়েছেন, তিনি নতুন মরশুমে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান। তাঁর বিশ্বাস, মোহনবাগানের মতো শক্তিশালী দলের হয়ে খেললে তিনি আরও উন্নতি করতে পারবেন। শুধু আইএসএল নয়, ক্লাব যে সমস্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, সেখানেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি। কলকাতায় আসার আগে থেকেই তাঁর মানসিক প্রস্তুতি একটাই— ট্রফি জেতা। সেই লক্ষ্য নিয়েই নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন বসনিয়ার এই তারকা মিডফিল্ডার।



















