কলকাতা: বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই ব্যস্ত হয়ে উঠছে কলকাতার আকাশপথও (Kolkata airport)। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী ও ভিভিআইপি চলাচল সামাল দিতে বড় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নেতাজি সুভাষ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, নির্বাচনী মরশুমে বাড়তে থাকা চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টারের চাপ সামলাতে বিমানবন্দরে তৈরি করা হচ্ছে একটি বিশেষ “ডেডিকেটেড জোন”।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, সাধারণত প্রতিদিন যেখানে পাঁচ থেকে ছয়টি হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, সেখানে এখন নির্বাচনের আবহে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১২-তে। ভোট যত এগোবে, এই সংখ্যা দিনে ২০-এরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি “নন-শিডিউলড” ফ্লাইট চলাচল হতে পারে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এখন কার্যত দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের আগমন-প্রস্থানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কলকাতা বিমানবন্দর। ইতিমধ্যেই রাজ্যে একাধিকবার সফর করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচনী প্রচার আরও জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে আরও বহু জাতীয় স্তরের নেতা, মন্ত্রী ও তারকা প্রচারকের আগমন ঘটবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ দুই বা তার বেশি সন্তান হলেই ২৫ হাজার টাকা! জন্মহার বাড়াতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সূত্রের খবর, এই বাড়তি চাপ সামলাতে বিমানবন্দরে হেলিকপ্টারের জন্য একটি আলাদা জোন তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। এতে করে চার্টার্ড ফ্লাইট ও হেলিকপ্টারের ওঠানামা স্বাভাবিক যাত্রীবাহী বিমানের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না। পাশাপাশি ভিভিআইপি যাত্রীদের দ্রুত প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্য বিশেষ “রিভলভিং ডোর” বা ঘূর্ণায়মান দরজাও বসানো হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানান, নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজনৈতিক নেতাদের সফর অনেকটাই হেলিকপ্টার নির্ভর হয়ে পড়ে। কারণ একই দিনে একাধিক সভা বা সমাবেশে যোগ দিতে তাঁদের দ্রুত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পৌঁছতে হয়। ফলে চার্টার্ড হেলিকপ্টারের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
এবারের পরিস্থিতিকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করে আধিকারিকরা বলছেন, তখন কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে ভিভিআইপি সফর অনেকটাই সীমিত ছিল। কিন্তু এবার সেই ধরনের কোনো বাধা না থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের সফর কার্যত রেকর্ড গড়তে চলেছে।
এদিকে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনী, CISF এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হয়েছে। কারণ ভিভিআইপি নেতাদের আগমনের সময় সাধারণত বড়সড় নিরাপত্তা বলয় ও গাড়ির কনভয় তৈরি হয়, যা সামাল দিতে বাড়তি প্রস্তুতি দরকার। শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, বিভিন্ন দলের রাজ্য নেতৃত্ব, প্রচারক ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও এই সময় চার্টার্ড বিমানে রাজ্যে আসেন। ফলে বিমানবন্দরের ওপর চাপ বাড়ে বহুগুণ।



















