মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার ছবি সামনে এল (Manipur)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) একই দিনে কাংপোকপি জেলার সাইকুল এবং তেংনৌপাল জেলার মোরে শহরে বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কুকি জো সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে মণিপুর বিজেপির পপুলার গভর্নমেন্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় কুকি জো বিধায়কদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানান।
এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জেলাগুলিতে জনমতের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমছিল, তা-ই এই প্রতিবাদে প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাইকুলে কুকি–জো কাউন্সিলের (KZC) ব্যানারে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন যৌথভাবে একটি বিশাল মিছিলের আয়োজন করে। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে জনসভায় পরিণত হয়। বক্তারা সেখানে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কুকি–জো প্রতিনিধিদের যে কোনো ধরনের অংশগ্রহণ সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অবস্থানের প্রতিফলন নয়। তাঁদের দাবি, কুকি–জো সংগঠনগুলির গৃহীত প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া উচিত নয়।
একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় মোরে শহরেও। কুকি উইমেনস ইউনিয়ন অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (KWU & HR), মোরে ব্লকের উদ্যোগে এই কর্মসূচি হয়। বিক্ষোভকারীরা গালঙ্গাম লেন্টল এলাকা থেকে মিছিল শুরু করে শহরের বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করে কেএসও মোরে ক্যাম্পাসের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে সমবেত হন। সেখানে তাঁরা নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারের গঠন প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।
মোরের বিক্ষোভে কিছু বিধায়কের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয় এবং প্রতীকী কুশপুতুল দাহ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্কের ভাঙনকে তুলে ধরে। তাঁদের অভিযোগ, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একতরফা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
উভয় জায়গার বিক্ষোভসভায় বক্তারা একসুরে বলেন, কুকি–জো কাউন্সিল একটি যৌথ অবস্থান গ্রহণ করেছে। সেই অবস্থান অনুযায়ী, নিরাপত্তা, বিচার এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মণিপুর সরকারের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ টেকসই হতে পারে না।
প্রতিবাদী সংগঠনগুলির তরফে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, যদি জনমতকে অগ্রাহ্য করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কুকি জো অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আরও বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।
সাইকুল ও মোরের এই বিক্ষোভ মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে এখনও পরিস্থিতি স্পর্শকাতর। ফলে আগামী দিনে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সমাধান কীভাবে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




















