ঢাকা: বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির এক উঠতি নাম সাদিক কায়েম। তিনি সম্প্রতি একটি বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে (Sadik Kayem)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচিত সাদিক কায়েম ঘোষণা করেছেন, তারা ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করবেন এবং কাশ্মীরকে স্বাধীনতা দেবেন।
এই বিতর্কিত বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর একটি অনুষ্ঠান বা সমাবেশে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশ-বিদেশে বিতর্কের জন্ম দেয়।সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য আসলে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুন: BREAKING : এবার পাকিস্তানে ভয়ঙ্কর হামলা! তছনছ হল নূর খান বেস
ওই আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের সক্রিয় ভূমিকা এবং সাদিক কায়েমের নেতৃত্বের কারণে তিনি ছাত্র সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সাদিক কায়েমের মতো তরুণ নেতারা দলের ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে উঠে আসছেন। সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসন থেকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তার নাম শোনা যাচ্ছে।
বক্তব্যটির মূল অংশে সাদিক কায়েম বলেন যে, বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া হবে। ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতাকে তিনি এই বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইনশাআল্লাহ বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই নেতৃত্ব একদিন ফিলিস্তিনকে মুক্ত করে দেবে এবং কাশ্মীরবাসীকে স্বাধীনতার স্বাদ দেবে।
এই ধরনের বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহ্যবাহী প্যান-ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দলটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর ইস্যুতে সোচ্চার। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির গায়েবানা জানাজার মতো অনুষ্ঠানেও সাদিক কায়েম ইমামতি করেছেন, যা তার আন্তর্জাতিক ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সমর্থনকে আরও স্পষ্ট করে।তবে এই ঘোষণা নিয়ে সমালোচনাও কম নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে একে অবাস্তব ও অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে কীভাবে ঢাকা থেকে ফিলিস্তিন-কাশ্মীরের মুক্তির নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব? কিছু ভারতীয় অ্যাকাউন্ট এবং মিডিয়া এই বক্তব্যকে ‘জঙ্গি সংগঠনের’ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচার করছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সমর্থকরা এটিকে ‘মুসলিম উম্মাহর প্রতি দায়বদ্ধতা’ হিসেবে দেখছেন এবং সাদিক কায়েমের সাহসিকতার প্রশংসা করছেন।




















