কাবুল: আন্তর্জাতিক মহলে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। সোমবার আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে “নির্ভুল এবং সমন্বিত” হামলা চালিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আফগান সেনার নিশানায় থাকা এই ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস, যা এর আগে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর সময়ও টার্গেট করা হয়েছিল।
আফগান সেনার দাবি, সম্প্রতি কাবুল ও বাগরামে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া জবাব দিতেই এই পাল্টা প্রত্যাঘাত করা হয়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে পাকিস্তান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
পাকিস্তানের প্রধান ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত হামলার দাবি
এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি জারি করে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী এক অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক সাইটে আঘাত হেনেছে। আফগান স্ট্রাইকে টার্গেট করা জায়গাগুলো হল-
রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস, বালোচিস্তানের কোয়েটায় অবস্থিত ১২তম ডিভিশনের সদর দফতর, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মোহমান্দ এজেন্সির খোয়াজাই ক্যাম্প৷ এছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামো এবং কমান্ড সেন্টার৷
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, এই হামলায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাবুল এবং বাগরামে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।”
পাশাপাশি আফগানিস্তানের তরফ থেকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন দেখায় বা আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, তবে তার “দ্রুত, নিষ্পত্তিমূলক এবং আনুপাতিক জবাব” দেওয়া হবে।
ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নিশানাতেও ছিল নূর খান এয়ারবেস Afghanistan airstrike Pakistan bases
রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হল এই নূর খান এয়ারবেস। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও এই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় এয়ারবেসটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর সেখানে জোরকদমে মেরামতি ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলছিল।
এবার আফগানিস্তানও তাদের নতুন প্রত্যাঘাতে একই ঘাঁটিকে টার্গেট করায়, আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। ভারতের পর এবার আফগান হামলায় পাক সামরিক বাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।




















