
শিলিগুড়ি: ভারতের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল। মাত্র ২০-২২ কিলোমিটারের এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডই মূল ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে জুড়ে রেখেছে। এবার সেই কৌশলগত এলাকাতেই মাটির তলা দিয়ে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর’ তৈরির মেগা পরিকল্পনা ঘোষণা করল কেন্দ্র। ভারতের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই আন্ডারগ্রাউন্ড রেললাইন?
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে এই ৪০ কিলোমিটারের বিশেষ করিডর তৈরি করা হবে। বর্তমানের ডাবল লাইনকে ফোর লাইনে উন্নীত করা হবে এবং তার ঠিক নিচেই থাকবে দুটি মাটির তলার রেললাইন। অর্থাৎ, মোট ৬টি লাইনের একটি শক্তিশালী যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের (NFR) আধিকারিকদের মতে, এই আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনটি তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতি হোক বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অসম, মেঘালয়, মণিপুরসহ সাত রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
ইউনূসের মন্তব্য ও ভারতের জবাব Chicken’s Neck Railway Project
মাস কয়েক আগেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। উত্তর-পূর্ব ভারতকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশের’ অংশ হিসেবে দাবি করা এবং ‘চিকেনস নেক’ বাইপাস করে সড়ক তৈরির প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। যদিও পরে তিনি অর্থনৈতিক সমন্বয়ের কথা বলে সুর নরম করেন, কিন্তু ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউনূসের সেই বিতর্কিত মানচিত্র বা মন্তব্যের পাল্টায় রেলের মাধ্যমে এই করিডরকে সুরক্ষিত করা দিল্লির একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’। মাটির তলার এই লাইন কেবল সাধারণ যাত্রী নয়, বরং সামরিক প্রয়োজনেও ভারতের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
নজরে ‘চিকেনস নেক’-এর গুরুত্ব
পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এই এলাকাটি আদতে ‘ল্যান্ডলকড’। এখান থেকে চিনের সীমান্তও খুব কাছে। তাই প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ দুই ক্ষেত্রেই এই ২০ কিলোমিটার এলাকা ভারতের ‘লাইফলাইন’। আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর হওয়ায় শত্রুদেশ বা বাইরের কোনো শক্তির পক্ষে এই রেল যোগাযোগ ধ্বংস করা কার্যত অসম্ভব হবে।
রেল আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী স্ট্র্যাটেজিক করিডরে পরিণত হবে। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক নয়া যুগের সূচনা হতে চলেছে এই রেললাইনের হাত ধরেই।












