নয়াদিল্লি: বুধবার দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। ভারতের আইনব্যবস্থার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও আসীন মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করতে আদালতে উপস্থিত হলেন। ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ‘SIR’ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নজর আইটেম নম্বর ৩৭-এর দিকে
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে আজ এই সংক্রান্ত গুচ্ছ পিটিশনের শুনানি রয়েছে। কার্যতালিকা অনুযায়ী তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনের মামলাটি রয়েছে ২১ নম্বরে।কবি জয় গোস্বামীর করা মামলাটি রয়েছে ৩৬ নম্বরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত পিটিশনটি রয়েছে ৩৭ নম্বরে।
আদালত কক্ষের বাইরে থাকা সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন। তূণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে তাঁকে দীর্ঘ কয়েক বছর পর ফের আইনজীবীর কালো গাউন পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছে। তাঁর নামে আগেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং এন্ট্রি পাস ইস্যু করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল: ২০২৬-এর ভিত্তি কেন ২০২৫-এর তালিকা নয়? Mamata Banerjee’s Interlocutory application
সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অন্তর্বর্তী আবেদন (Interlocutory Application) দাখিল করেছেন, তার মূলে রয়েছে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। তাঁর যুক্তি- ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন মিটেছে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাও প্রস্তুত। তাহলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই তালিকার ভিত্তিতে কেন ভোট হবে না?
তথ্যের ছোটখাটো অসঙ্গতি বা নামের বানানে ভুলের কারণে যাঁদের শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।SIR প্রক্রিয়ার নামে ভোটারদের অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে এবং তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
সাংবাদিক বৈঠকে হুঁশিয়ারি
দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধী নন। কিন্তু প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে যে পদ্ধতিতে SIR চলছে তা সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে ভোটাররাই শেষ কথা। তথাকথিত অসংগতির দোহাই দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।”
আইনি লড়াইয়ের মোড়
আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে নথিভুক্ত আইনজীবীরাই সাধারণত সওয়াল করেন। তবে কোনও নাগরিক চাইলে আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ‘পার্টি-ইন-পার্সন’ হিসেবে নিজের বক্তব্য রাখতে পারেন। এলএলবি ডিগ্রিধারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আইনি অধিকার প্রয়োগ করেই আজ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সওয়াল করতে পারেন। গোটা দেশ এখন তাকিয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের দিকে।




















