নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিরাপত্তা ঘিরে সোমবার রাত থেকে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি কলকাতা থেকে মাঝরাতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কী ধরনের বাহিনী পাঠানো হয়েছে?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা থেকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি বিশেষ দল বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এই টিমে রয়েছেন
- ডিএসপি পদমর্যাদার এক আধিকারিক
- এক জন ইন্সপেক্টর
- একাধিক মহিলা পুলিশকর্মী
- র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর সদস্যরা
এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব হবে দিল্লিতে অবস্থিত বঙ্গভবন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য অতিথিশালার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির সময় নিরাপত্তা সমন্বয়ের কাজও তারা দেখবে।
আরও পড়ুন: পুলিশ কমিশনারের বয়ানে ফাঁস মমতার ‘মিথ্যাচার’
হঠাৎ কেন বাড়ানো হলো নিরাপত্তা?
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা।
তবে বৈঠক চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী সভা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফে যথাযথ আচরণ করা হয়নি। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে কি জমিদারি চলছে? রাজপথে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার মমতার
দিল্লিতে কী কী কর্মসূচি রয়েছে?
সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।
- দুপুরে এসআইআর-এ প্রভাবিত কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বঙ্গভবনে সাংবাদিক সম্মেলন
- বিকেলে দিল্লির ১৮১ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে দলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি
এই কর্মসূচিগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক জমায়েত, প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের সম্ভাবনার কথাও মাথায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দিল্লি পুলিশের বদলে কেন রাজ্য পুলিশের বাহিনী?
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এটি কোনও তাৎক্ষণিক হুমকির প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। দিল্লিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে এবং বিভিন্ন পক্ষের কর্মসূচির কারণে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং রাজ্য সরকারের সম্পত্তির দায়িত্বে পরিচিত ও সমন্বিত বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বৈঠক বর্জনের ঘটনার পর রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে কী বোঝা যাচ্ছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নেওয়া এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের মত। তবে মমতার এই পদক্ষেপে পরিস্থিতির দিকে প্রশাসনের নজর রয়েছে।




















