নয়াদিল্লি: সোমবার সাতসকাল থেকেই উত্তপ্ত দিল্লির হেইলি রোড। বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন অতিসক্রিয়তা এবং ঘেরাও দেখে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮১ নম্বর সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে সাধারণ ঘরের শাড়িতেই ছুটে এলেন বঙ্গভবনে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়েই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি।
বঙ্গভবন যেন দুর্গের কবলে
এদিন সকাল থেকেই বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের সাজো সাজো রব। রাস্তার দু’ধারে ব্যারিকেড, বিশাল বাহিনী আর প্রিজন ভ্যান দেখে রণক্ষেত্রের আভাস মিলছিল। খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পৌঁছন মমতা। পুলিশি তৎপরতা দেখে তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “ক্যামেরা ঘোরান! দেখুন কী ভাবে দালালি চলছে। দিল্লিতে কি জমিদারি চলছে? গরিব মানুষের কোনও জায়গা নেই এখানে।”
‘২০০ লোকেই কেন এত ভয়?’ এদিন বাংলার ১৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাংবাদিকদের সামনে নিয়ে আসেন মমতা। তিনি জানান, এর মধ্যে ৫০ জনের পরিবার এসআইআর-এর কারণে মারা গিয়েছেন, আর ৫০ জনকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও মৃত দেখানো হয়েছে। ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, “আমরা মাত্র ২০০ লোক এনেছি, তাতেই ভয় পেয়ে গিয়েছে? যদি লাখ লাখ লোক নিয়ে আসতাম তবে কী করত? অমিত শাহ কলকাতায় গেলে রেড কার্পেট পায়, আর আমি এলে ব্ল্যাক কার্পেট?”
দৌড় মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee Hailey Road protest
রাজপথে দৌড় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার মাঝেই পুলিশের ব্যারিকেড আর বাসের সারি দেখাতে কার্যত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় লাগান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পিছনে দৌড়তে হয় নিরাপত্তারক্ষী আর সাংবাদিকদেরও। দিল্লি পুলিশের কর্তাদের দিকে আঙুল তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “যখন দিল্লিতে বিস্ফোরণ হয়, তখন পুলিশ কোথায় থাকে? যিনি মাথায় (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বসে আছেন, আমি তাঁকেই দোষ দিচ্ছি।”
মঙ্গলবার বড় বৈঠক দিল্লি পুলিশের কাছে মমতার আর্জি, “ওদের ভয় দেখাবেন না, ওরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টেয় এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিয়েই বঙ্গভবনে বড়সড় সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের আগে দিল্লির রাজপথে মমতার এই মেজাজ বুঝিয়ে দিল, এসআইআর ইস্যুতে লড়াই এবার আরও দীর্ঘ ও কঠিন হতে চলেছে।




















