নয়াদিল্লি: আজ ১ ফেব্রুয়ারী কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আজকের এই বাজেট মূলত ছিল কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক এবং আজকের ৮৫ মিনিটের এই বাজেট সেশনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা হল লাখপতি দিদি প্রকল্প। এই প্রকল্পে মহিলা উদ্যোগপতিদের আর্থিক এবং পরিকাঠামোগত সাহায্য দেওয়া হবে। বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য নতুন উদ্যোগ চালু করা।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এই প্রকল্পের সাফল্যের ভিত্তিতে মহিলাদের ক্রেডিট-ভিত্তিক জীবিকা থেকে সরাসরি উদ্যোগের মালিকানায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’লাখপতি দিদি’ প্রকল্প, যা দিন-নির্ভর জীবিকা মিশনের অধীনে চলছে, গ্রামীণ মহিলাদের সেল্ফ-হেল্প গ্রুপ (SHG)-এর মাধ্যমে বছরে অন্তত ১ লক্ষ টাকা আয় করতে সাহায্য করে। এর সাফল্য দেখে সরকার এখন পরবর্তী ধাপ নিয়েছে মহিলাদের উদ্যোগের মালিক করে তোলা।
পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য খরচে বিশেষ ছাড়, মধ্যবিত্ত লাভবান?
বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে ‘সেল্ফ-হেল্প এন্টারপ্রেনার (SHE) মার্টস’ চালু করা হবে। এগুলো হবে কমিউনিটি-ওনড রিটেল আউটলেট, যা ক্লাস্টার-লেভেল ফেডারেশনের মধ্যে চলবে। এতে উন্নত ও উদ্ভাবনী ফাইন্যান্সিং ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে মহিলা উদ্যোগপতিদের আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সাহায্য দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “লাখপতি দিদি প্রোগ্রামের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে আমি প্রস্তাব করছি মহিলাদের ক্রেডিট-লিঙ্কড জীবিকা থেকে উদ্যোগের মালিকানায় নিয়ে যাওয়া।
SHE মার্টস সেল্ফ-হেল্প উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালিত কমিউনিটি-ওনড রিটেল আউটলেট হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”এই প্রকল্প গ্রামীণ মহিলাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। এতে তাঁদের প্রোডাক্ট মার্কেটে পৌঁছানো সহজ হবে, ঋণের সুবিধা বাড়বে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা বাড়ানো যাবে। লাখপতি দিদি প্রকল্প ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ মহিলাকে স্বাবলম্বী করেছে যাঁরা SHG-এর মাধ্যমে ছোট ব্যবসা, হস্তশিল্প, কৃষি-সংশ্লিষ্ট কাজ বা অন্যান্য উদ্যোগ চালাচ্ছেন।
এখন SHE মার্টসের মাধ্যমে তাঁদের প্রোডাক্ট স্থানীয় ও বৃহত্তর মার্কেটে বিক্রি করা যাবে, যা আয় বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেবে। সরকারের লক্ষ্য ৩ কোটি মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ বানানো, এবং এই নতুন উদ্যোগ তাতে নতুন গতি যোগ করবে।বাজেটের এই অংশ মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
গ্রামীণ ভারতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লে অর্থনীতির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের ভূমিকা শক্তিশালী হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং মার্কেট অ্যাক্সেস, ব্র্যান্ডিং এবং ইনোভেটিভ ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে টেকসই উদ্যোগ গড়ে তুলবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর স্বপ্ন আরও কাছে আসবে।




















