পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াতে চলেছেন জেইউপি (JUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারি এক বিশাল জনসমাবেশ বা মেগা র্যালির ডাক দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সমস্ত রাজনৈতিক জোটের দরজা বন্ধ করার ঘোষণাও করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, শনিবার রাজ্যের ২০০ বিধানসভা আসনে একতরফাভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
অবসরের পর ছাব্বিশের নির্বাচনের তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী রাজীব কুমার
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ২০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও আদৌ কতগুলি আসনে জেইউপি জয়ী হতে পারবে? সেনিয়েই সংশয় রয়েছে খোদ হুমায়ুন কবীরের মনেও। এই জল্পনার মধ্যেই গত বুধবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই বৈঠকের বিষয়বস্তু বা কোনও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি দু’পক্ষের কেউই।
এদিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জোটের দরজা বন্ধ করার সিদ্ধান্তে অনড় হুমায়ুন কবীর। তারই মধ্যে শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিশাল জনসমাবেশের ডাক, যেখানে জেইউপি দলের জন্ম হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার অনুমতি না মেলায় বেলডাঙাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে মেগা সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে।

হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, তাঁর ডাকে দশ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে। ফলে শনিবার বেলডাঙার মাঠে বাস্তবে কত মানুষের জমায়েত হয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অনেকের মতে, এই সমাবেশেই স্পষ্ট হয়ে যাবে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক প্রভাব কি শুধুই বেলডাঙা-মুর্শিদাবাদ এলাকায় সীমাবদ্ধ? নাকি তিনি সত্যিই আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে তথাকথিত ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারবেন, যেমনটা তিনি নিজে দাবি করছেন।
এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, “বাংলা থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে উৎখাত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং প্রতিটি সমস্যার বাস্তব সমাধান করাই আমাদের এজেন্ডা। এই লক্ষ্যেই আগামী শনিবার, ৩১ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় আমরা একটি বিশাল জনসভা ও মেগা র্যালির আয়োজন করেছি।”




















