সিঙ্গুর: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ঐতিহাসিক সিঙ্গুর। যে সিঙ্গুর একদা বাম শাসনের ৩৪ বছরের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই মাটি থেকেই আজ উন্নয়নের একগুচ্ছ ডালি নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপাড়ার ইন্দ্রখালি এলাকার সভা থেকে আজ কেবল রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ নয়, বরং কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নের রূপরেখাও স্পষ্ট করলেন তিনি।
২০ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান
এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ২০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। তবে সভার অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর উদ্বোধন। মেদিনীপুরবাসীর বহু বছরের এই দাবি মেটাতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে এদিন উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব (দীপক অধিকারী)। রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
সিঙ্গুরে শিল্পের প্রতিশ্রুতি বনাম ‘বাংলার মডেল’ Ghatal Master Plan launch
১০ দিন আগেই সিঙ্গুরের এই ঐতিহাসিক ‘টাটার মাঠে’ সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি এবার সিঙ্গুরে পুনরায় শিল্প ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিল্প নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও দিশা না থাকায় পাল্টা আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল প্রকল্পের উদ্বোধনই করেননি, বরং ফসল বিমার আর্থিক সহায়তা এবং ‘সুফল বাংলা’র ভ্রাম্যমাণ গাড়ির উদ্বোধনের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে সিঙ্গুর থেকেই কেন মাস্টারস্ট্রোক?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান। বিজেপি যখন শিল্পকে হাতিয়ার করে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে নিজের ‘কৃষক বন্ধু’ ভাবমূর্তিকেই ফের ঝালিয়ে নিলেন।




















