নয়াদিল্লি: ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (India EU) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। যার ফলে ইইউ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পাস্তা, চকোলেট, বিস্কুট, পেস্ট্রি, রুটি এবং পোষা প্রাণীর খাবারের মতো পণ্য। বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর ভারতে শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, কিন্তু এই চুক্তির অধীনে তা শূন্যে নেমে আসবে।
২৭ জানুয়ারি এই ঘোষণা করা হয়েছে যা দুই দশকের দীর্ঘ আলোচনার পর একটা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। এই চুক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এই চুক্তি প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজার তৈরি করবে।ইইউ-এর তরফে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে ইইউ-এর প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যের ওপর ভারতীয় শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে, যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার) শুল্ক সাশ্রয় হবে।
নির্বাচনের আগে বাংলাকে শ্মশান উপহার মমতার
প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে এটা সরাসরি ভারতীয় ভোক্তাদের জন্য সুবিধা। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ থেকে আসা উচ্চমানের পাস্তা, চকোলেট ব্র্যান্ড (যেমন লিন্ডট, গডিভা, নেসলে-র কিছু প্রিমিয়াম লাইন), বিস্কুট এবং পেস্ট্রি এখন অনেক সস্তায় পাওয়া যাবে। বর্তমানে এসব পণ্যের দাম অনেক বেশি থাকে শুল্কের কারণে, কিন্তু এখন থেকে দাম কমে আসবে এবং বাজারে বৈচিত্র্য বাড়বে।এই চুক্তির অন্যান্য অংশেও বড় পরিবর্তন রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ওয়াইনের শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমে ২০-৩০ শতাংশে নামবে, অলিভ অয়েল ৪৫ শতাংশ থেকে শূন্যে, গাড়ির শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক তুলে নেওয়া সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব ফেলবে। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিকে দুই পক্ষের জন্য লাভজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল কৃষি খাত (যেমন দুগ্ধজাত, শস্য, মুরগি) রক্ষা করা হয়েছে, যাতে দেশীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।ভারতীয় ভোক্তাদের জন্য এটা একটা বড় সুবিধা। মধ্যবিত্ত পরিবারে ইউরোপিয়ান চকোলেট বা পাস্তা এখনো বিলাসিতা, কিন্তু দাম কমলে তা দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ঢুকে পড়বে।
শহরের সুপারমার্কেটে ইতালিয়ান পাস্তা, সুইস চকোলেট, ফ্রেঞ্চ বিস্কুটের প্রাপ্যতা বাড়বে। পোষা প্রাণীর খাবারও সস্তা হবে, যা পোষা প্রাণীপ্রেমীদের জন্য ভালো খবর। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটা ভারতের আমদানি বৈচিত্র্য বাড়াবে এবং প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে আরও ভালো পণ্য তৈরিতে উৎসাহিত করবে।




















