গোরখপুর NEET পরীক্ষার্থীর মৃত্যুতে নয়া পদক্ষেপ পুলিশের

গোরাখপুর , ১৭ সেপ্টেম্বর: উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে এক ১৯ বছর বয়সী NEET পরীক্ষার্থী দীপক গুপ্তার নৃশংস হত্যার (NEET Student Death)পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হত্যার একদিন পর মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
NEET Student Death

গোরাখপুর , ১৭ সেপ্টেম্বর: উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে এক ১৯ বছর বয়সী NEET পরীক্ষার্থী দীপক গুপ্তার নৃশংস হত্যার (NEET Student Death)পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হত্যার একদিন পর মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (এডিজিপি) ল অ্যান্ড অর্ডার অমিতাভ যশ গোরাখপুরে পৌঁছে অপরাধস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করে তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ সক্রিয়ভাবে তদন্ত করে দোষীদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে এবং তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।”

এই ঘটনা গোরখপুরের মৌয়াচাপি গ্রামে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গ্রামবাসীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও এই ঘটনায় নোটিস নিয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।ঘটনার ঘটনাক্রম অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সোমবার রাত প্রায় ১২:৩০ মিনিটের দিকে পিপরাইচ থানা এলাকার মৌয়াচাপি গ্রামে ১০-১২ জন সন্দেহভাজন গবাদি পশু চোরের দল দুটি পিকআপ ভ্যানে করে আসে।

   

তারা একটি আসবাবের দোকানে চুরি করার চেষ্টা করে, যা দেখে গ্রামবাসীরা চিৎকার করে উঠে। NEET-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দীপক গুপ্তা তখনই ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং চোরদের আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চোরেরা তাকে জোর করে একটি ভ্যানে টেনে নিয়ে যায়। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গিয়ে তারা দীপককে ভ্যান থেকে ফেলে দেয়, ফলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সে সেই রাতেই মারা যান। পুলিশের তথ্য অনুসারে, এটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নয়, বরং আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গোরাখপুর-পিপরাইচ রাস্তা অবরোধ করে এবং পুলিশের উপর পাথর ছোড়ে। এতে চারটি থানার পুলিশ ফোর্স এবং প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করতে হয়। গ্রামবাসীরা চোরের দলকে ধরার দাবি জানিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখে প্রায় ছয় ঘণ্টা, যার ফলে ব্যাপক যানজট হয়। একজন চোরকে গ্রামবাসীরা ধরে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায় এবং তার ভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পুলিশ যখন তাকে উদ্ধার করতে আসে, তখন সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। গোরাখপুরের এসএসপি রাজ করণ নয়্যার বলেন, “আমরা এফআইআর দায়ের করেছি এবং তদন্ত চলছে। চোরের দলকে শীঘ্রই ধরা হবে।” এছাড়া, দুজন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কারণ তারা ঘটনার আগে সঠিকভাবে পাহারা দিতে পারেনি।

এডিজিপি অমিতাভ যাশের আগমনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি অপরাধস্থল পরিদর্শন করে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দীপকের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। পরিবারের সদস্যরা অশ্রুসিক্ত হয়ে বলেন, “আমাদের ছেলে তার ভবিষ্যৎ গড়ার পথে ছিল। এমন নির্মমতা আমরা কখনো ভাবতে পারিনি।

পুলিশ যেন দোষীদের শাস্তি দেয়।” এডিজিপি বলেন, “এই ঘটনা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা স্থানীয় গোয়েন্দা এবং পুলিশ টিম গঠন করে চোরের দলের সন্ধান করছি। গ্রামের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।” গোরাখপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক মিনা বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারের যাবতীয় দাবি পূরণ করা হবে এবং চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google