হরমুজ প্রণালীতে রণক্ষেত্র! জাহাজ কব্জা করল আমেরিকা, ড্রোন ছুড়ে জবাব ইরানের

তেহরান: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই ওমান সাগরে ভয়াবহ সংঘাতের পথে আমেরিকা ও ইরান। আমেরিকার পক্ষ থেকে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ মাঝসমুদ্রে কব্জা করার পর পাল্টা আঘাত হানল তেহরান। ইরানের ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
US Iran Oman Sea Conflict

তেহরান: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই ওমান সাগরে ভয়াবহ সংঘাতের পথে আমেরিকা ও ইরান। আমেরিকার পক্ষ থেকে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ মাঝসমুদ্রে কব্জা করার পর পাল্টা আঘাত হানল তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, ওমান সাগরে মোতায়েন মার্কিন সামরিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: ইরানি জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ অমান্য করে ‘তুসকা’ নামের একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস স্প্রুয়েন্স’ (USS Spruance) জাহাজটিকে থামার সংকেত দিলেও তা শোনেনি। এরপরই মার্কিন বাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং মেরিন সেনারা জাহাজটির দখল নেয়। ট্রাম্পের দাবি, ওই জাহাজে অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে এবং বর্তমানে তা মার্কিন হেফাজতে রয়েছে।

   

ইরানের পাল্টা আঘাত ও ড্রোন হামলা US Iran Oman Sea Conflict

আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে চিহ্নিত করেছে ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিশোধ নিতে ওমান সাগরে মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। তেহরানের দাবি, তারা মার্কিন দস্যুতার যোগ্য জবাব দিয়েছে। তবে এই হামলায় আমেরিকার কোনো যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও পেন্টাগনের তরফে কোনো স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।

ভেস্তে যাওয়ার মুখে যুদ্ধবিরতি

দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসনের পর তারা আর কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। এমনকি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যে শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা এখন অনিশ্চিত।

পাল্টা হুমকির লড়াই

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন, ইরান কথা না শুনলে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের যে সব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেই সব দেশের জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামান্য কোনো ভুল পদক্ষেপ এই অঞ্চলকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google